মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে প্রত্যাশিত বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। তাদের মতে, এই রায়ের মধ্য দিয়ে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের ন্যায়বিচার মিলেছে, এবং দেশের জনগণও বিচার পেয়েছে।
বিশিষ্টজনরা বলেন, নির্বিচার গুলি ও হত্যাকাণ্ডের দায় শেখ হাসিনাকেই বহন করতে হবে। অন্যায়-অবিচার ও জুলুম-নির্যাতন করে কেউ পার পায় না—এ ঘটনাও ভবিষ্যতের শাসক ও রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য শিক্ষণীয় হওয়া উচিত। ক্ষমতায় গিয়ে যেন কেউ স্বৈরাচারী আচরণে না জড়ায়, গুম-খুন বা রক্তপাতের রাজনীতি না করে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, “রায়টি যথার্থ হয়েছে। জনগণও এটাই প্রত্যাশা করেছিল। দীর্ঘ তদন্তের পর ফোনকলসহ সব প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে রায় দেওয়া হয়েছে—এসব পত্রপত্রিকায়ও প্রকাশিত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতরা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। তিনি (হাসিনা) শুধু অপরাধীই নন, বরং এখনও হুমকি-ধামকি দিয়ে যাচ্ছেন—কোনো অনুতাপ নেই। আওয়ামী লীগারদেরও নেই। তাই রায়টি যথোপযুক্ত।”
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, “নিজের শাসনামলে শেখ হাসিনা নির্বাচনকে পাশ কাটিয়ে বলপ্রয়োগে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছিলেন। সেই কারণেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়—নির্বিচারে গুলি, হত্যাকাণ্ড ও জবরদস্তির দায় তারই।”
তবে তিনি বলেন, “বিচার প্রক্রিয়া প্রতিশোধমূলক হওয়া উচিত নয়—শুধু বিচারই হওয়া উচিত। প্রক্রিয়াটি আমি সরাসরি দেখিনি, তাই এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলতে পারছি না।”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “এই রায় থেকে ভবিষ্যতের সরকারগুলো কি শিক্ষা নেবে? বলপ্রয়োগ, স্বৈরাচারী আচরণ, জনবিরোধী কর্মকাণ্ড কি বন্ধ হবে?” তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সরকারের সাম্প্রতিক একটি ‘অস্বচ্ছ ও জোরপূর্বক’ চুক্তিই দেখায় যে পরিস্থিতি এখনো আশাব্যঞ্জক নয়।
মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব বলেন, “অন্যায় করলে তার বিচার হতেই হয়। আল্লাহর বিচার যেমন আছে, তেমনি জাগতিক বিচারও আছে। শেখ হাসিনা ১৪ শতাধিক মানুষকে হত্যা করেছেন—এর মধ্যে শিশু, শিক্ষার্থীও রয়েছে। বিভিন্ন সময় নিরপরাধ মানুষকে গুম-খুন ও নির্যাতনের নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফল তো ভোগ করতেই হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জুলুম-নিপীড়ন করে কেউ পার পায় না। শেখ হাসিনা যে অন্যায় করেছে, তার বিচার আজ হলো—এটা সবার জন্য সতর্কবার্তা।”
সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবু হেনা রাজ্জাকী বলেন, “হাসিনাসহ দু’জন ফ্যাসিস্টই দেশের বাইরে। রায় কার্যকর করতে হলে আগে তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে।”
