বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে জনগণের মত প্রকাশের নির্বাচন। তিনি বলেন, সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু—এভাবে কাউকে আলাদা করে দেখার রাজনীতি জামায়াত করে না। সবার পরিচয় একটাই—বাংলাদেশের নাগরিক। জামায়াত ক্ষমতায় এলে কাউকে নির্যাতন করা হবে না এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে, যেখানে সন্ত্রাস ও দুর্নীতির কোনো স্থান থাকবে না।
তাহের বলেন, অতীতে জামায়াতের দুইজন মন্ত্রী থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো প্রমাণ মেলেনি। তিনি নিজেও গ্রেপ্তারের পর সব ধরনের অনুসন্ধানে নির্দোষ প্রমাণিত হন এবং দুদক পরে স্বীকার করে যে তথ্যগত ভুলের কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে জামায়াতের ৬২ জন সংসদ সদস্য ছিলেন—কোনো এমপির বিরুদ্ধেই দুর্নীতির মামলা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি দেশীয় রাজনীতির বৃহত্তম দল হলেও এখনও জনগণের আস্থায় পূর্ণভাবে ফিরতে পারেনি। অন্যদিকে, জামায়াতের জনপ্রিয়তার প্রমাণ মিলেছে ড্যাকসু, জ্যাকসু, রাকসু ও চাকসুসহ বিভিন্ন ছাত্র সংসদ নির্বাচনে, যেখানে শিক্ষার্থীরা ছাত্রশিবিরকে বেছে নিয়েছে। তার দাবি, আগামী নির্বাচন হবে সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার নির্বাচন।
শনিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গুনবতী ইউনিয়ন জামায়াত আয়োজিত গুনবতী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তাহের। সভায় সভাপতিত্ব করেন গুনবতী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. ইউসুফ মেম্বার এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা জামায়াতের কর্ম পরিষদ সদস্য ডা. মন্জুর আহমেদ সাকির।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মু. মাহফুজুর রহমান ও জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্ম পরিষদ সদস্য ভিপি শাহাব উদ্দিন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ মজলিশে শুরা সদস্য আইয়ুব আলী ফরায়েজী, ইউনিয়ন ব্যাংকের সাবেক এমডি সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সালেহ, চৌদ্দগ্রাম পৌর জামায়াতের আমির মাও. মোহাম্মদ ইবরাহীম, উপজেলা সেক্রেটারি মু. বেলাল হোসাইনসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও হেফাজতে ইসলামের নেতারা।
