লিবিয়ায় মানবপাচারচক্রের গুলিতে মাদারীপুরের রাজৈর ও সদর উপজেলার তিন যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার পথে মাফিয়াদের হামলায় নিহত হন রাজৈরের দুর্গাবদ্দী গ্রামের মুন্না তালুকদার, ঘোষলাকান্দির বায়েজিত শেখ এবং সদর উপজেলার আদিত্যপুর গ্রামের ইমরান খান।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর তিন পরিবারের ওপর নেমে এসেছে গভীর শোক। পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, দালালচক্রের প্রতারণা ও নিষ্ঠুর ব্যবসার শিকার হয়ে তাদের ছেলেেরা প্রাণ হারিয়েছেন।
মুন্না ও বায়েজিত ভালো জীবনের আশায় ইউরোপে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু যাত্রার আগেই মানবপাচারকারীদের গুলিতে তারা নিহত হন। সদর উপজেলার ইমরান খানকে এলাকায় পরিচিত দালাল শিপন খান ২২ লাখ টাকায় ইতালিতে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পরে লিবিয়ায় আটকে রেখে পরিবার থেকে আরও ১৮ লাখ টাকা আদায় করা হয়। ১ নভেম্বর সাগরপথে যাত্রার কিছুক্ষণের মধ্যেই মাফিয়াদের গুলিতে ইমরানের মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। তিনজনেরই লাশ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার ইমরানের মৃত্যুসংবাদ দেশে পৌঁছালে অন্য দুই পরিবারের কাছেও একই খবর পৌঁছে যায়। ঘটনার পর এলাকায় মানবপাচারচক্রের সদস্যদের বাড়িতে তালা ঝুলে গেছে। শিপন খানের পরিবার অভিযোগ অস্বীকার করলেও এলাকাবাসীর দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়ায় বসে এই চক্র পরিচালনা করছেন।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, লিবিয়ায় তিন বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য তারা পেয়েছেন। কোনো পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
