জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর থেকেই তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিয়ে ব্যাপক আলোচন-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে সর্বোচ্চ দণ্ড পাওয়ার পর তিনি আদৌ বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারবেন কিনা—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাব্বীর আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, “She is finished—সে শেষ। আমার মনে হয় না তার রাজনৈতিক অবস্থান আগের জায়গায় ফেরার কোনো সম্ভাবনা আছে। যদিও অনেকে বলেন রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই, কিন্তু নেতৃত্ব যখন বড় ধরনের ভুল করে, তারও একটা শেষ থাকে।”
অন্যদিকে, শেখ হাসিনা ট্রাইব্যুনালকে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ আখ্যা দিয়ে রায়কে ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের পক্ষে শিগগিরই পুনরুদ্ধার বা ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে।
অধ্যাপক সাব্বীর বলেন, “তাদের যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব—গোটা পঞ্চাশজন—স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা তাদের কারও পক্ষেই আগামী পাঁচ-দশ বছরে সম্ভব হবে কিনা—I really doubt (আমার সত্যিই সন্দেহ হয়)। আর তা সম্ভব না হলে দলকে পুনর্গঠিত করাও অত্যন্ত কঠিন হয়ে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনার রাজনৈতিক পরিসমাপ্তি হলেও দলটিকে তিনি বাঁচাতে পারতেন, যদি জুলাই আন্দোলনে প্রাণহানির দায় স্বীকার করে নিজেই সভাপতির পদ ছাড়তেন। গত এক বছরে তার সামনে এটা করার সুবর্ণ সুযোগ ছিল। কিন্তু তিনি তা না করে উল্টো দিকেই এগিয়েছেন, যার ফলে আওয়ামী লীগকে আরও বড় সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।”
—







