প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আগের কোনো কমিশনকে কাজ করতে হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শনিবার রাজধানীর গুলশানে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। সিইসি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন কমিশনকে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে। আগামী সপ্তাহে গণভোট সংক্রান্ত আইন পাস হলেই কমিশন প্রস্তুতি শুরু করবে।
নাসির উদ্দিন বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন এমন অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, যা আগের কোনো কমিশনকে মোকাবিলা করতে হয়নি। তিনি বলেন, “আইন মেনে কাজ করাই আমাদের একমাত্র পথ। এর বাইরে কোনো বিকল্প নেই।” জনগণের প্রত্যাশা সম্পর্কে তিনি বলেন, “গত কয়েক দিনের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে মানুষের আকাঙ্ক্ষা কতটা বেশি। এটি আমাদের জন্য বিশাল চাপ। তবুও আমাদের লক্ষ্য একটাই—স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা।”
তিনি ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। প্রায় ২১ লাখ মৃত ব্যক্তির নাম এখনো ভোটার তালিকায় রয়েছে, এবং আগের তিনটি জাতীয় নির্বাচনে মৃত ভোটারদের হয়ে ভোট দেওয়া হয়েছে। নীলফামারিতে মিয়ানমারের ২০–২৫ জন নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের পোস্টাল ভোট প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গণভোট প্রসঙ্গে সিইসি জানান, আইন চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ব্যালটের ধরন নির্ধারিত নয়। তবে প্রস্তাবিত চারটি বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’-ভিত্তিক ভোট গ্রহণের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
শেষে তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি এখন নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
