রাষ্ট্রপতি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদনের পর ‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছেন। মঙ্গলবার রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এর গেজেট প্রকাশ করা হয়।
এর আগে সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।
গণভোটে উপস্থাপনযোগ্য প্রশ্ন
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, গণভোটে ভোটারদের সামনে নিম্নলিখিত প্রশ্ন উপস্থাপন করা হবে:
“আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে উল্লেখিত সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিচের প্রস্তাবসমূহের প্রতি সম্মতি দিচ্ছেন?”
(হ্যাঁ/না)
প্রস্তাবসমূহ:
(ক) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ায় গঠন করা হবে।
(খ) আগামী জাতীয় সংসদ হবে দুই কক্ষবিশিষ্ট। দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে, এবং সংবিধান সংশোধনের জন্য উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
(গ) সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, সংসদীয় কমিটির সভাপতিত্ব বণ্টন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ তফসিলে বর্ণিত ৩০টি বিষয়ে জুলাই সনদে যে ঐকমত্য হয়েছে, তা বাস্তবায়নে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকবে।
(ঘ) জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়িত হবে।
গণভোট পরিচালনার প্রক্রিয়া
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত সব ভোটকেন্দ্রেই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
সংসদ নির্বাচনের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসাররাই সংশ্লিষ্ট এলাকায় গণভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন।
একইভাবে, নির্বাচনের জন্য মনোনীত প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসাররাও গণভোটে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা হিসেবে গণ্য হবেন।
