শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর না করা নিয়ে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক নতুন উত্তেজনার মধ্যে পড়েছে। মৃত্যুদণ্ড ঘোষিত হওয়ার দিনই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের কাছে দ্রুত তাকে প্রত্যর্পণের আহ্বান জানায়। মন্ত্রণালয়ের দাবি, দুই দেশের বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তাকে ফেরত পাঠানো ভারতের দায়িত্ব।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মোবাশ্বার হাসান বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশত্যাগ করতে হওয়াটাই তার অপরাধের পরোক্ষ স্বীকারোক্তি। তার বক্তব্য, জনগণ ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলো তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল কারণ তিনি সীমা অতিক্রম করেছিলেন এবং তার সময়ে বহু মানুষ হত্যার শিকার হন।
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উত্থান ও পতন বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯৭৫ সালে তার পরিবারের ওপর হামলার পর তিনি নির্বাসিত হন। ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। খালেদা জিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বহু বছর দেশের রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছে।
২০০৮ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর তিনি দৃঢ়ভাবে শাসন চালান এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে দেশকে এগিয়ে নেন, তবে মানবাধিকার লঙ্ঘন, দমন-পীড়ন ও একদলীয় শাসনের অভিযোগে তার ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়। ভারত তার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পাশে ছিল।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে ব্যাপক রক্তপাতের পর তার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দমন, হত্যার নির্দেশ ও সহিংসতার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আদালত রায়ে উল্লেখ করে, তিনি বিক্ষোভকারীদের হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
ভুক্তভোগীদের পরিবার রায়কে আংশিক স্বস্তিকর বললেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তারা সম্পূর্ণ শান্তি পাচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেছেন।
ভারত বর্তমানে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ভারতের সাবেক কূটনীতিক অনিল ত্রিগুণায়েত বলেন, শেখ হাসিনা এখনো আইনি প্রতিকার গ্রহণের সুযোগ রাখেন—তিনি সুপ্রিম কোর্টে আপিল ও পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যাওয়ার পথ খোলা আছে। তাই ভারত তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত নেবে না।
বাংলাদেশ ভারতের প্রতি প্রত্যর্পণের আহ্বান জানালেও নয়াদিল্লি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত হিসাব-নিকাশে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার পতনের মাধ্যমে একটি দীর্ঘ সংঘাতপূর্ণ রাজনৈতিক যুগের ইতি ঘটলেও সামনে অনিশ্চয়তার নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।







