চরমোনাই মাদরাসা মাঠে তিনদিনব্যাপী অগ্রহায়ণের মাহফিল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। জোহরের নামাজের পর বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির আমিরুল মুজাহিদিন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম চরমোনাই পীরের উদ্বোধনী বয়ানের মধ্য দিয়ে অধিবেশন শুরু হয় বলে বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
উদ্বোধনী বয়ানে চরমোনাই পীর বলেন, মানুষকে আল্লাহ নির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়ে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন এবং দুনিয়াই সেই দায়িত্ব পালনের পরীক্ষাক্ষেত্র। চরমোনাইয়ের মাহফিলের কোনো দুনিয়াবি উদ্দেশ্য নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আল্লাহভোলা মানুষকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে আনা এবং আখেরাতমুখী করাই এ মাহফিলের লক্ষ্য। আগত মুসল্লিদের তিনি সতর্ক করে বলেন, দুনিয়াবি স্বার্থে এখানে আসার প্রয়োজন নেই; বরং আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের নিয়তে অংশ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যারা নতুন করে মাহফিলে এসেছেন, তারা দুনিয়ার ধ্যান-খেয়াল ত্যাগ করে আখেরাতের চিন্তাকে অন্তরে জায়গা দিন এবং আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে অন্তরকে পরিশুদ্ধ রাখুন। ব্যক্তি জীবনের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় জীবনকে ইসলামের নীতিমালায় পরিচালনা করা হলে সত্যিকারের মুক্তি আসবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মাহফিলের নিয়ম-কানুন তুলে ধরে জানানো হয়, সকাল থেকেই কয়েক হাজার মুসল্লিকে বিভিন্ন হালকায় ভাগ করে সালাতসহ ইসলামের মৌলিক বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যা তিন দিনই চলবে। মুসল্লিদের চিকিৎসাসেবায় ১০০ শয্যার স্থায়ী মাহফিল হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ১৩ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আরও ৪০ জন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ১০টি অ্যাম্বুল্যান্স ও ২টি নৌ-অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত রয়েছে।
মাহফিলের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির নিজস্ব স্পেশাল টিম এবং বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রয়েছে। হারানো জিনিস বা ব্যক্তিকে খুঁজে পেতে প্রতিটি মাঠে হারানো-প্রাপ্তি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। হাজারো মুসল্লির জন্য পানি, ওজু, গোসল ও মানসম্মত টয়লেট সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
মাহফিলের প্রথম দিনে বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় দিনে হবে ওলামা সম্মেলন এবং শেষ দিনে ছাত্র-জনতার গণজমায়েত। এছাড়া ইসলামী যুব আন্দোলন ও ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের উদ্যোগে বিশেষ মতবিনিময় সভাও অনুষ্ঠিত হবে।
আগামী ২৯ নভেম্বর শনিবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে চরমোনাই পীরের আখেরি বয়ানের মাধ্যমে মাহফিলের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে। ১৯২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত চরমোনাই মাদরাসার নেতৃত্ব বর্তমানে আমিরুল মুজাহিদিন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম দিয়ে আসছেন।







