ইন্ডিয়ান প্লেটের গতিবিধির ফলে বেঙ্গল বেসিনে আরও বহু ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে গবেষক আক্তারুল আহসান বলেন, ‘এসব ফাটলের মধ্যে কিছু ভূমিকম্প সৃষ্টির ক্ষমতা রাখে, আবার কিছু রাখে না। নতুন শনাক্ত ফাটলের সঙ্গে বড়মাত্রার কয়েকটি ভূমিকম্প এবং ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তন এখনও চলমান।’
নতুন চিহ্নিত এই ফাটলরেখার সঙ্গে সরাসরি যে ভূমিকম্পগুলোর যোগসূত্র পাওয়া গেছে, তার মধ্যে ১৮৮৫ সালের ‘বেঙ্গল আর্থকোয়েক’ উল্লেখযোগ্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার ২০১০ সালের এক গবেষণায় জানান, ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ এবং উৎসস্থল ছিল মানিকগঞ্জ। ধারণা করা হয়, এটি মধুপুর ফাটলরেখায় সংঘটিত হয়েছিল।
ব্রিটিশ ভূতত্ত্ববিদ চার্লস স্টুয়ার্ট মিডলম্যাসের তথ্য উদ্ধৃত করে হুমায়ুন আখতার উল্লেখ করেন, ‘এই ভূমিকম্পের কম্পন ভারত, ভুটান ও মিয়ানমারের কিছু অঞ্চল পর্যন্ত অনুভূত হয়েছিল। নিশ্চিত হওয়া ৭৫ জন মৃত্যুর মধ্যে ৪০ জন ছিলেন শেরপুরের বাসিন্দা। ময়মনসিংহে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।’
১৯২৩ সালে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ এলাকায় আরও একটি ভূমিকম্প ঘটে, যা ইউএসজিএসের ক্যাটালগে ৬.৯ মাত্রার হিসেবে নথিভুক্ত আছে। আক্তারুল আহসানের গবেষণায় দেখা গেছে, এই কম্পনের সঙ্গেও নতুন শনাক্ত ফাটলরেখার সম্পর্ক রয়েছে।
নতুন গবেষণায় ‘মর্ফোলজিক্যাল চেঞ্জ’ বিশ্লেষণে স্যাটেলাইট ম্যাপিংসহ প্রযুক্তিগত সহায়তা দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আশরাফুল আলম। তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলের বাস্তবতা হলো—এখানে বহু ফাটলরেখা আছে। গবেষণা করলে আরও নতুন ফাটলের খোঁজ মিলবে। তবে ফাটলরেখা থাকা মানেই বড় ধরনের ভূমিকম্প হবে, তা বলা যায় না।’
