ফরহাদ মজহার বলেছেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ‘ফল’ হিসেবে ক্ষমতায় এলেও মুহাম্মদ ইউনূস জনগণকে উপেক্ষা করে সেনাবাহিনী ও আন্তর্জাতিক শক্তির সঙ্গে আঁতাত করেছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সমাজে যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে, তা সমাধান না করে নির্বাচন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নাগরিকদের বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইনসাইড আউট অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, সেক্যুলার ফ্যাসিজমের বিপরীতে দেশে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটেছে, যা গণঅভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করতে চাইছে। এই ধর্মীয় উগ্রবাদ মোকাবেলা করাই এখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক কর্তব্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের দাবি ও সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব নিরসনে কোনো উদ্যোগ না নিয়ে ইউনূস রাজনৈতিক দলগুলোকে একত্র করেছেন, যারা লুটেরা গোষ্ঠীর পুনরুত্থান চায়। রাষ্ট্রগঠন ও সংস্কারে ব্যর্থতার কারণে দেশে উগ্রতার বিস্তার বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি।
বাউলদের ওপর হামলা, মাজার ভাঙা, কবর থেকে লাশ তোলা—এসব ঘটনার জন্য তিনি ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীকে দায়ী করেন। তার মতে, ইসলামে ক্ষমার যে ঐতিহ্য রয়েছে, উগ্র শক্তিগুলো তা অস্বীকার করছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে তিনি দুর্বল আখ্যা দিয়ে বলেন, উগ্র ধর্মবাদীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
ইসলামে গান হারাম—এ দাবির বিরোধিতা করে তিনি বলেন, যে কোনো কিছু মানুষকে ধর্ম থেকে বিচ্যুত করলে তা হারাম, কিন্তু গান নিজেই হারাম নয়। মাদ্রাসা শিক্ষার সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু লোক ধর্মীয় শাস্ত্রের ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে, যা রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আইনের প্রয়োগে সরকারের অজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্মীয় উগ্রবাদ আইন দিয়ে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়; বরং এর বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই প্রয়োজন।
হেফাজতে ইসলামের বর্তমান অবস্থানে বিস্ময় প্রকাশ করে ফরহাদ মজহার বলেন, অতীতে নিপীড়নের শিকার হওয়ার পরও এখন তারা বাউল ও সংস্কৃতিবিরোধী অবস্থান নিচ্ছে। তার মতে, হেফাজত গণঅভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করে শেখ হাসিনাকে পুনর্বাসনের রাজনীতিতে নেমেছে।







