রাজধানীর গুলশানে হাওলাদার টাওয়ারে গতকাল রোববার জাতীয় পার্টির দুটি অংশসহ মোট ১৬টি রাজনৈতিক দলের বৈঠকে নতুন রাজনৈতিক জোট ‘জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক জোট’ গঠনে ঐকমত্য হয়েছে। আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জেপি) এবং ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের জাতীয় পার্টি (জাপা)–উভয় পক্ষই এ জোটে যুক্ত হচ্ছে। জোটের মুখপাত্রের দায়িত্ব পেয়েছেন জাপার (আনিস) মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। আগামী ৬ ডিসেম্বর জোটটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈঠকে ব্যারিস্টার আনিস বলেন, ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে গেলে ভালো ফল পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি জানান, জোটের মূলনীতি হবে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, উদার গণতন্ত্র ও সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থান।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। তিনি বলেন, তারা ঐক্যের রাজনীতি করেন, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার বিভাজনের রাজনীতি করছে।
জোটবদ্ধ হওয়া দলগুলোর অধিকাংশই অতীতে আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিল। মঞ্জু ও আনিস দুজনই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন সময় মন্ত্রী ছিলেন। ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে তারা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হিসেবে সংসদ সদস্য হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বিরোধীদলীয় উপনেতা হন। জুলাইয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের সঙ্গে বিরোধে পড়ে আনিস আলাদা দল গঠন করেন।
বৈঠকে অংশ নেন জনতা পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার মিলন, মহাসচিব শওকত মাহমুদ, জাপার (মতিন) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এ এন এম সিরাজুল ইসলাম, মুসলিম লীগের সভাপতি মহসিন রশিদ, এনপিপির চেয়ারম্যান শেখ সালাউদ্দিন সালু, নেজামে ইসলাম পার্টির একাংশের নির্বাহী সভাপতি মাওলানা আশরাফুল হক, ইসলামিক জোটের চেয়ারম্যান আবু নাসের ওহেদ ফারুক, জাতীয় সংস্কার জোটের সভাপতি মেজর (অব.) আমীন আহমেদ আফসারী, মানবাধিকার পার্টির চেয়ারম্যান আখতার হোসেন এবং জাগপার একাংশের সভাপতি মহিউদ্দিন বাবলুসহ বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা।
বৈঠকের শেষে রুহুল আমিন হাওলাদার জানান, বৃহত্তর জোট গঠনে ১৬টি রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে একমত হয়েছে।
