ভারত সরকারের কাছে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর পরই সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে। ভারতে অবস্থানকারী তার এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির সঙ্গে করা একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে, যার অডিও রেকর্ড আমার দেশের হাতে এসেছে।
ফোনালাপে কামাল বলেন, ভারতে অবস্থান করাও আর নিরাপদ মনে হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ড, ভারত সরকারের আশ্রয় এবং সম্ভাব্য প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে তিনি আলোচনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ঘনিষ্ঠতার সূত্রে ওই ব্যক্তি কামালের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুরোধ জানালে তিনি আপাতত দেখা করতে রাজি হননি। কামাল বলেন,
“এখন দেখা করতে চাই না। কয়েক দিন পরে যদি প্রয়োজন হয়, আমি নিজেই ডাকব।”
জবাবে ওই ব্যক্তি জানান যে তিনি কামালের বাসার সামনে এসে গেছেন। তখন কামাল বলেন,
“আমি আর ওই ঠিকানায় থাকি না। অন্যত্র চলে এসেছি। ভারত আমাদের আশ্রয় দিয়েছে—তাদের কোনো সমস্যায় ফেলা ঠিক হবে না।”
নতুন ঠিকানা গোপন রেখে কামাল আরও জানান,
“এখানেও নিরাপদ মনে করছি না। নতুন কিছু ভাবতে হচ্ছে।”
তিনি পরে বিষয়টি আলোচনা করবেন বলেও ফোনালাপে আশ্বাস দেন।
পটভূমি: পালিয়ে ভারতে আশ্রয়
গত বছরের ৫ আগস্ট জুলাই বিপ্লবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনার সঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালও ভারতে আশ্রয় নেন। পরে জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও কামালকে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার রায় দেন।
রায়ের পর বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনা ও কামালকে ফেরত চেয়ে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক চিঠি পাঠায় ভারতের কাছে।
চিঠির পর আত্মগোপনে কামাল
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, দিল্লিকে প্রত্যর্পণের চিঠি পাঠানোর পর আসাদুজ্জামান খান কামাল স্পষ্টতই বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি আগের বাসস্থান বদলে ভারতেরই একটি অজ্ঞাত স্থানে গিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।
