পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর–আইএসপিআর–এর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী কারাবন্দী পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করে জানান যে ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আখ্যান তৈরি করছেন, যা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, আদিয়ালা কারাগারে ইমরান খানের সাথে সাক্ষাৎকারে বারবার দেখা গেছে—ইমরান আইন, সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় বিধান অগ্রাহ্য করে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ও এর নেতৃত্বকে অভিযুক্ত করছেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, পাকিস্তানের কোন আইন ও সংবিধান অনুযায়ী একজন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য প্রচার বৈধ হতে পারে। তিনি সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন—যদিও মত প্রকাশের স্বাধীনতা স্বীকৃত, তবে সেই স্বাধীনতা কখনোই রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, অখণ্ডতা ও প্রতিরক্ষার বিরুদ্ধে ব্যবহারের অনুমতি দেয় না। তাই একজন দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির মুখে সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে অভিযোগ ছোড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ইমরান খানকে উদ্দেশ করে লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী আরও বলেন যে ইমরান খানের বক্তব্য ও আচরণ এক বিভ্রান্ত ও অহংকারী মানসিকতার পরিচায়ক। তার মন্তব্য অনুযায়ী, ইমরান এমনভাবে আচরণ করছেন যেন রাষ্ট্রের ওপরে তার ব্যক্তিগত ইচ্ছাই সর্বোচ্চ এবং তাকে ছাড়া যেন দেশ টিকে থাকতে পারবে না—এমন ভ্রান্ত ধারণা থেকেই তিনি রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য প্রচার করছেন। তিনি ইমরান খানকে পাকিস্তানের জন্য “জাতীয় হুমকি” বলেও আখ্যা দেন।
ডিজি আইএসপিআরের এই কঠোর মন্তব্য পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যেখানে আবারও সামনে এসেছে রাষ্ট্রবিরোধী আখ্যান তৈরি, রাজনৈতিক বক্তব্যের সীমা ও সেনাবাহিনীর প্রতি বৈরী প্রচারণার প্রশ্নটি।
