সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা লুনা আল–শিবলের মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে রহস্য ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সন্দেহজনক এক ‘দুর্ঘটনায়’ তার মৃত্যু হলেও, সাম্প্রতিক তথ্য ও ভিডিও ফাঁস তার মৃত্যুর পেছনে গুপ্তচরবৃত্তির জটিল পটভূমির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আল–আরাবিয়া সম্প্রতি ২০১৮ সালের ঘৌটা অভিযান–পরবর্তী একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে লুনাকে আসাদের সঙ্গে গাড়িতে বসে হিজবুল্লাহকে ব্যঙ্গ করতে, সিরীয় সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে কটাক্ষ করতে এবং রাশিয়াকে নিয়ে মন্তব্য করতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তার আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয় এবং তিনি বিদেশি শক্তির হয়ে কাজ করেছেন কি না, সেই সন্দেহ আরও জোরালো হয়।
তার মৃত্যুর দুই মাস আগে ইরানের অনুরোধে আসাদ তাকে এবং তার স্বামীকে বাথ পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে সরিয়ে দেন। তদন্তে উঠে আসে—লুনা আল–শিবল সিরিয়া–ইরান বৈঠকের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য রাশিয়াকে পাচার করেছিলেন।
এ ঘটনাকে আরও জটিল করে তোলে আরেকটি তথ্য—লুনার ভাই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুলহাম আল–শিবলকে সিরীয় গোয়েন্দারা গ্রেপ্তার করে ইসরায়েলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক তথ্য পাচারের অভিযোগে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই ইসরায়েল ২০২৪ সালের এপ্রিলে ইরানের কনস্যুলেটে হিজবুল্লাহ ও ইরানি নেতাদের বৈঠকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
লুনা আল–শিবলের রহস্যময় মৃত্যু, তার বিরুদ্ধে একাধিক গোয়েন্দা অভিযোগ এবং পরিবারের সদস্যদের অনুরূপ কর্মকাণ্ড—সব মিলিয়ে এই ঘটনাকে ঘিরে সিরিয়ার শীর্ষ ক্ষমতামহলে গভীর অবিশ্বাস, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা যুদ্ধে ইঙ্গিত করছে।
