রাজধানীর বিজয়নগরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় তার পাশে থাকা এক ব্যক্তির পরিচয় ও সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। বিভিন্ন সমর্থিত সূত্রের বরাতে দাবি করা হচ্ছে, হাদীর সঙ্গে ছবিতে দেখা যাওয়া মাস্ক পরা ব্যক্তি আদাবর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান।

সূত্রগুলো জানায়, ওই ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবির সঙ্গে মিল রয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, হাদীর পাশে বসে থাকা ব্যক্তির ঘড়ির সঙ্গে ফয়সালের পূর্বে প্রকাশিত ছবির ঘড়ির মিল পাওয়া গেছে। এছাড়া কিছু পর্যবেক্ষক জানান, সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলে ওই ব্যক্তিকে দেখা গেছে।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে রাজধানীর আদাবরে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া স্কুলে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় র্যাব ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানকে গ্রেপ্তার করে। সে সময় তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচটি গুলি, তিনটি মুঠোফোন ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয় বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

ঘটনার পর থেকে হাদীর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণকারী হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের গতিবিধি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, ফয়সাল করিম মাসুদ সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছিলেন।
তবে এই ঘটনায় এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে হামলার সঙ্গে জড়িত বলে নিশ্চিত করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ, আলামত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত এবং পেছনে কোনো সংগঠিত পরিকল্পনা আছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।







