ছুটির দিনে রাজধানী ঢাকা তুলনামূলক ফাঁকা থাকলেও গতকাল শুক্রবার দুপুরে পুরানা পল্টনে হঠাৎ গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত একটি অটোরিকশাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলির পর একটি অটোরিকশা থেকে ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ চিৎকার শোনা যায়। কাছে গিয়ে লোকজন দেখতে পান, হাদির মাথা ও কান থেকে রক্ত ঝরছে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার সময় সড়কের পাশে ফুটপাতে অবস্থান করছিলেন সাজ্জাদ খান নামে এক ব্যক্তি। তিনি একটি গণমাধ্যমকে জানান, জুমার নামাজ শেষে পুরানা পল্টনের বাইতুস সালাহ জামে মসজিদের বিপরীত পাশে ‘ডক্টর টাওয়ার’ ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। ঠিক তখনই ফকিরাপুল দিক থেকে একটি অটোরিকশায় করে বিজয়নগরের দিকে যাচ্ছিলেন ওসমান হাদি।
সাজ্জাদ খানের বর্ণনায়, অটোরিকশাটির পেছনে একটি মোটরসাইকেলে দুজন ব্যক্তি অনুসরণ করছিলেন। মোটরসাইকেলের পেছনে বসা ব্যক্তির গায়ে ছিল কালো চাদর, যা দিয়ে তার দুই হাত ঢাকা ছিল। মোটরসাইকেলটি অটোরিকশার কাছাকাছি এলে পেছনের আরোহী খুব কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। এরপর মুহূর্তের মধ্যেই তারা বিজয়নগরের দিকে পালিয়ে যায়।
গুলির পরপরই এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হাদি চিৎকার করতে থাকেন এবং রিকশাটি থেমে গেলে আশপাশের লোকজন সেখানে জড়ো হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রিকশায় হাদির পাশে থাকা ব্যক্তি তাকে ধরে রাখেন। তখন তার মাথা ও কান থেকে রক্ত রাস্তায় ঝরছিল।
ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি পেছন থেকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে অনুসরণ করছেন। রিকশায় ছিলেন দুজন যাত্রী। মোটরসাইকেলের দুই আরোহীর মাথায় হেলমেট ছিল। চালকের পরনে ছিল জিনস প্যান্ট এবং পেছনের আরোহীর গায়ে ছিল চাদর। এক পর্যায়ে মোটরসাইকেলটি অটোরিকশার পাশে পৌঁছে গেলে পেছনের ব্যক্তি গুলি চালান।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী শুক্রবার রাতে জানান, ওসমান হাদির ওপর হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।
উল্লেখ্য, ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে তিনি কয়েক দিন ধরেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে আসছিলেন।
