সাংবাদিক আনিস আলমগীর এবং অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ চারজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রোববার রাতে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’-এর কেন্দ্রীয় সংগঠক আরিয়ান আহমেদ এ অভিযোগ করেন।
অভিযোগে অপর দুই অভিযুক্ত হলেন মারিয়া কিসপট্টা ও ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্যেও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুসারীরা বিভিন্ন কৌশলে দেশে অবস্থান করে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। অভিযুক্তরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, গত ৫ আগস্টের পর থেকে অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন টেলিভিশন টক শোতে অংশ নিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের অপচেষ্টা করছেন। অভিযোগকারীর দাবি, এসব বক্তব্য ও অনলাইন কার্যক্রমের ফলে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা উসকানি পাচ্ছে এবং এর জেরে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, সহিংসতা ও অবকাঠামো ধ্বংসের মতো কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ রফিক আহমেদ জানান, অভিযোগটি সাইবার-সম্পর্কিত। তিনি বলেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রাথমিক সত্যতা যাচাই ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা পেলে বিষয়টি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে।
এদিকে অভিযোগ দায়েরের পর সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আনিস আলমগীর দাবি করেন, রোববার রাত ৮টার দিকে ধানমন্ডির একটি জিম থেকে তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। তবে ওই জিমের ম্যানেজার আরেফিন জানান, সন্ধ্যার দিকে আনিস আলমগীর জিমে আসেন এবং রাত ৮টার দিকে ব্যায়াম শেষ করে চলে যান; জিমের ভেতরে কোনো পুলিশ সদস্যকে তিনি দেখেননি।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবির প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।







