ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করার ঘটনায় সরাসরি হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশ কার্যত আশাহীন হয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, হামলাকারীরা ইতোমধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে। ঘটনার পর থেকে র্যাব ও ঢাকা মহানগর পুলিশ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করলেও তাঁদের কেউই সরাসরি হামলায় অংশ নেয়নি।
গতকাল রোববার রাত পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক, মানব পাচার চক্রের দুই সহযোগী, সন্দেহভাজন শুটার ফয়সাল করিম মাসুদের স্ত্রী সামিয়া, তাঁর শ্যালক শিপু এবং বান্ধবী মারিয়া। তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
র্যাব জানায়, সর্বশেষ অভিযানে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা থেকে সামিয়া, শিপু ও মারিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, হাদির ওপর হামলার আগে ও পরে ফয়সালের সঙ্গে তাঁদের ঘন ঘন ফোনে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ফয়সাল করিম মাসুদই হামলার শুটার এবং আলমগীর শেখ মোটরসাইকেল চালক—এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। তদন্তকারীদের মতে, হামলার পর তাঁরা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে নিজেদের অবস্থান গোপন রেখে ধাপে ধাপে ঢাকা ছাড়েন এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে প্রবেশ করেন।
গত শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় থাকা অবস্থায় শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। মোটরসাইকেলে এসে খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।
এ বিষয়ে গতকাল বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এন এস নজরুল ইসলাম জানান, সন্দেহভাজনদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ইমিগ্রেশন ডেটাবেইসে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ফয়সাল করিম মাসুদ সর্বশেষ চলতি বছরের জুলাই মাসে থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফেরেন এবং এরপর বৈধভাবে দেশত্যাগের কোনো রেকর্ড নেই।
তবে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরের নালিতাবাড়ী থেকে মানব পাচার চক্রের দুই সদস্য সিবিয়ন দিও ও সঞ্চয় চিসমকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে হামলাকারীদের সীমান্ত পার হতে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক মো. আবদুল হান্নানকে র্যাব গ্রেপ্তার করে পল্টন থানায় হস্তান্তর করেছে। আদালত তাঁকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে মো. মিলন ও হাবিবুর রহমান হাবিব নামে দুজন সহযোগীকেও আটক করা হয়েছে। ঘটনার দিন হামলাকারীদের সঙ্গে তাঁদের শতাধিকবার ফোনে যোগাযোগ হয়েছিল।
এদিকে হামলাকারীরা ভারতে পালিয়ে থাকলে তাঁদের গ্রেপ্তার করে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী কোনো কার্যকলাপে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তারা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।







