জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ফ্যাসিবাদের দোসর ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেশের প্রতিটি এলাকা, পাড়া ও মহল্লায় গণকমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।
মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দেশব্যাপী অভিযান চালিয়ে সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি শেষে সচিবালয় এলাকায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ ডাকসুর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সাদিক কায়েম বলেন, প্রতিটি এলাকা-পাড়া-মহল্লায় গঠিত গণকমিটির মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী খুনি হাসিনার দোসর আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে থানায় সোপর্দ করা হবে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে এবং দাবি বাস্তবায়নে আশ্বাস পাওয়া গেছে। তবে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা দেখা না গেলে সারা দেশের ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আরও শক্তিশালী আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি অভিযোগ করেন, দিল্লি খুনি হাসিনা ও তার সহযোগীদের আশ্রয় দিচ্ছে এবং বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এ প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
ওসমান হাদির ওপর হামলাকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনারের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে সাদিক কায়েম বলেন, এই ধরনের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে এবং ওই বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে অনুরোধ জানান।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসরদের মামলা প্রত্যাহার ও জামিনের জন্য অর্থের বিনিময়ে আদালত ও কিছু আইনজীবী কাজ করছেন—এমন অভিযোগ ছাত্রসমাজ পর্যবেক্ষণ করছে। গণহত্যা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের পক্ষে যারা অবস্থান নেবে, তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করা হবে এবং তালিকা প্রকাশ করা হবে বলেও তিনি জানান।
ডাকসুর ভিপি বলেন, খুনি হাসিনার বিচার, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের বিচারের প্রশ্নে এবং বিদেশি আধিপত্যের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যমত্য প্রয়োজন। প্রকৃত ফ্যাসিস্টদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
