সিডনির বন্ডি বিচে ভয়াবহ বন্দুক হামলার সময় সাহসিকতার সঙ্গে এক বন্দুকধারীকে প্রতিহত করা মুসলিম ব্যক্তি আহমেদ আল আহমেদকে ‘অস্ট্রেলিয়ান জাতীয় হিরো’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ।
মঙ্গলবার দক্ষিণ সিডনির সেন্ট জর্জ হাসপাতালে গিয়ে আহত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। হাসপাতালের শয্যার পাশে দাঁড়িয়ে ৪৩ বছর বয়সী দুই সন্তানের এই জনকের অসাধারণ সাহস ও আত্মত্যাগের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। আলবানিজ বলেন, সন্ত্রাসের মুখে আহমেদের এই সাহসিকতা জাতীয় ঐক্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “আহমেদ, তুমি একজন অস্ট্রেলিয়ান বীর। অন্যদের জীবন বাঁচাতে তুমি নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছ। সবচেয়ে অন্ধকার মুহূর্তেই আমরা অস্ট্রেলিয়ানদের সেরা রূপ দেখতে পাই।”
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, হামলার সময় আহমেদ আল আহমেদ বন্দুকধারীদের একজনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। গুলি চালানোর পর তিনি হামলাকারীর অস্ত্র কেড়ে নিয়ে তার দিকেই তাক করে ধরেন। এতে আতঙ্কিত বন্দুকধারী আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়। এ সময় আহমেদ নিজে একাধিক গুলিতে আহত হন এবং তার বাহু ও কাঁধে গুরুতর আঘাত লাগে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত ও স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভয় ও ঘৃণার মাধ্যমে দেশকে বিভক্ত হতে দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, “সন্ত্রাসীরা সেটাই চায়। কিন্তু আমরা বিভক্ত হব না। আমরা একে অপরের পাশে দাঁড়াব, ঐক্যবদ্ধ থাকব এবং এই সংকট কাটিয়ে উঠব।”
পুলিশ জানায়, রোববার সন্ধ্যায় বন্ডি বিচ এলাকায় ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ও তার ২৪ বছর বয়সী ছেলে জনতার ওপর গুলি চালায়। এতে অন্তত ১৫ জন নিহত হন এবং ৪২ জনের বেশি মানুষ আহত হয়ে সিডনির বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন। হামলাকারীদের একজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন, অন্যজন গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে ঘোষণা করেছে। হামলার পেছনের উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।
এই নৃশংস হামলায় অস্ট্রেলিয়াজুড়ে শোকের আবহ নেমে এসেছে। নিহতদের স্মরণে সিডনির বিভিন্ন স্থানে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সোমবার রাতে বন্ডি বিচে মোমবাতি প্রজ্বালন ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
