বিএনপি আনুষ্ঠানিক কোনো নির্বাচনী জোটে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে থাকলেও বাস্তবতায় আসন সমঝোতার পথে এগোচ্ছে। দলটি জামায়াতের মতোই শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার কৌশল গ্রহণ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো আনুষ্ঠানিক জোট গঠন করা হবে না। তবে সমঝোতার ভিত্তিতে কিছু আসনে শরিক দলগুলোর প্রার্থীদের জন্য ছাড় দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে শরিক দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতার নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি নিজস্ব প্রার্থী দেবে না। আবার যেসব আসনে ইতোমধ্যে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, প্রয়োজন হলে সেসব আসনে প্রার্থী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তও নেওয়া হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত বিএনপি ২৭২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এর বাইরে কিছু আসন কৌশলগতভাবে উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে, যেখানে শরিক দলগুলো চাইলে বিএনপির প্রার্থীর বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে। পাশাপাশি গণতন্ত্র মঞ্চের অন্তত চারটি শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি প্রার্থী না দেওয়ার কিংবা ঘোষিত প্রার্থী প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এসব দলের মধ্যে নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, জেএসডি ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি রয়েছে।
অন্যদিকে, আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে জমিয়ত বিএনপির কাছে ছয়টি আসন দাবি করলেও আলোচনার পর চারটি আসনে সম্মতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এভাবে একাধিক দলের সঙ্গে সমঝোতার হিসাব-নিকাশ চূড়ান্ত করতে দলটির নীতিনির্ধারক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
তবে যেসব আসনে বিএনপি নিজেদের প্রার্থী ছাড় দেওয়ার কথা ভাবছে, সেসব এলাকায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের অসন্তোষ ও প্রতিক্রিয়া সামাল দেওয়া নিয়ে দলটির ভেতরে উদ্বেগও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা মনে করছেন, নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে সমঝোতা প্রয়োজন হলেও মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ রাখা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
