ভারত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়ায় সোশ্যাল মিডিয়া যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চালু করেছে। এবার থেকে যারা বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় ভিসার আবেদন করবেন, তাদের বিগত কয়েক বছরের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ও কার্যক্রম বিশদভাবে যাচাই করা হবে। ভারতের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগেও কিছু বিচ্ছিন্ন ক্ষেত্রে ভারতের এফআরআরও (বিদেশি নাগরিক নথিভুক্তি বিভাগ) কিছু বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রী বা পর্যটকের ভিসা বাতিল করেছিল, যেমন আফসারা আনিকা মিম ও মাইশা মাহজাবিনের ঘটনা। তাদের বা অন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারত-বিরোধী মন্তব্য বা কার্যক্রম ধরা পড়ায় ভিসা বাতিল করা হয়।
ভারত সরকার জানিয়েছে, আগের মতো কেবল ‘হাতেগোনা’ ঘটনা নয়, এখন এটি নিয়ম হিসেবে চালু হবে। মার্কিন ভিসা যাচাই পদ্ধতির অনুরূপভাবে, বাংলাদেশ থেকে ভারত ভিসার আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ভিসা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল পরীক্ষা করা হবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক, প্রবীণ এবং দীর্ঘমেয়াদী মেডিক্যাল ভিসাধারীরা এই প্রক্রিয়ার বাইরে থাকবেন। আবেদনকারীদের পোস্টের ‘পাবলিক’ বা ‘প্রাইভেট’ অবস্থাও পরীক্ষা করা হবে।
ঢাকায় নিযুক্ত এক সাবেক ভারতীয় রাষ্ট্রদূত এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, “বাংলাদেশে বসে যারা নিয়মিত ভারতকে নিন্দা করেন, তাদের সহজেই চিনে নেওয়া সম্ভব। সেই অনুযায়ী ভিসা বাতিল করা উচিত।”
ভারত সরকার ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। লোকবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে, তবে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। সাময়িকভাবে ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ও চট্টগ্রামের পাঁচটি ভিসা আবেদন কেন্দ্রে রোজ কয়েকশো ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে, যা ধীরে ধীরে বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে।
