জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীরা যদি বিচারের আওতার বাইরে থেকে যায়, তবে দেশে আর কারও জীবন নিরাপদ থাকবে না। রোববার ভোরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে হাদির কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি সব ধরনের সন্দেহ ও বিভ্রান্তির ঊর্ধ্বে উঠে দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিপ্লবীদের হত্যা করে কখনোই বিপ্লবের চেতনাকে দমন করা যায় না। বরং সেই আদর্শ আরও বিস্তৃত হয় এবং মানুষ তা আরও দৃঢ়ভাবে ধারণ করে। হাদির জানাজায় দেশ-বিদেশের মানুষের ব্যাপক মানসিক সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে, হাদি শুধু একজন ব্যক্তি নন—তিনি একটি আদর্শের প্রতীক।
হাদির হত্যাকারীদের ‘বাংলাদেশের শত্রু’ আখ্যা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, হাদিরা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিজস্ব সংস্কৃতির পক্ষে ছিলেন এবং অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। সে কারণেই হাদির শত্রুরা প্রকৃত অর্থেই বাংলাদেশের শত্রু।
তিনি বলেন, দেশ ও জাতির পাহারাদারি আমাদেরই করতে হবে। আর কোনো কালো চিলকে দেশের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া যাবে না—এটাই ছিল হাদিদের অঙ্গীকার। তারা প্রয়োজনে জীবন দিতে প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু ‘চব্বিশ’ ছাড়তে রাজি হননি। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এটাই কি তাদের অপরাধ ছিল?
হাদির জীবনদর্শনের কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হাদি আজীবন ইনসাফের পক্ষে ছিলেন। এমনকি শত্রুর প্রতিও তিনি কখনো বেইনসাফি করতে চাননি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিলেও তিনি কখনো জুলুম করেননি।
হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে সরকারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, হাদির হত্যাকাণ্ডের পর সরকারের কর্মকাণ্ডে জনগণ সন্তুষ্ট নয়। তবে জানাজার সময় প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা জনগণের প্রত্যাশা উপলব্ধি করেছেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, হাদির জনপ্রিয়তা হয়তো কারও কারও সহ্য হয়নি। পরিকল্পিতভাবেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করে, বিপ্লবীদের হত্যা করা গেলেও তাদের চেতনাকে হত্যা করা যায় না; বরং সেই চেতনা আরও বহুগুণ শক্তি নিয়ে ফিরে আসে।
এ সময় তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
কবর জিয়ারত ও সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফারহাদসহ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।







