ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি অন্য দেশের সম্মান প্রদর্শন করাই প্রতিষ্ঠিত রীতি। সে অনুযায়ী বাংলাদেশে রাজনৈতিক হত্যা সংঘটিত করে অপরাধীরা যেন পাশের কোনো দেশে আশ্রয় না পায়, সে বিষয়ে জাতিসংঘকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। তিনি বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের অপরাধীদের পাশাপাশি শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের অবিলম্বে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে হবে, যাতে তাদের বিরুদ্ধে প্রাপ্য শাস্তি কার্যকর করা যায়।
রোববার বাদ আসর শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। চরমোনাই পীর বলেন, শহীদ শরীফ ওসমান হাদির জানাজায় লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে—বাংলাদেশকে নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলতে পারবে না। ভারতীয় আধিপত্যবাদের অবসান ঘটেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, রাজধানী ঢাকায় হাদির মতো একজন জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার পর খুনিরা কীভাবে নির্বিঘ্নে ঢাকা ত্যাগ করে দেশের সীমান্ত অতিক্রম করল, তা বোধগম্য নয়। এ বিষয়ে সরকারকে অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেফতার করার আহ্বান জানান তিনি।
পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সাইফুদ্দিন আহমেদ চরমোনাই পীরকে স্বাগত জানান। নামাজ শেষে উপস্থিত ছাত্র ও মুসল্লিদের নিয়ে শহীদ ওসমান হাদির মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান ও শেখ ফজলে বারী মাসউদ, ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ আব্দুর রহমান, ঢাকা-৭ আসনের মুফতি কেফায়েতুল্লাহ কাশফি, যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ, ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাসির আহমেদ, সহ-সভাপতি খাইরুল আহসান মারাজান ও ইমরান হোসাইন নুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফ মুহাম্মাদ আলাউদ্দিনসহ কেন্দ্রীয় ও শাখা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
