শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদীর শাহাদাতের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। আল-জাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি, দ্য গার্ডিয়ান, দ্য ডন, দ্য মর্নিং সানসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী গণমাধ্যম এবং চীনা সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ পায়। বাংলাদেশের অধিকাংশ গণমাধ্যমেও সংবাদটি ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা হয়। তবে প্রতিবেশী দেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে বিষয়টি তুলনামূলকভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পক্ষ থেকেও ‘জনগণের সঙ্গে একাত্মতা’ প্রকাশ করে শোকবার্তা দেওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ‘ফার রাইট’ নয়, বরং ‘সফট রাইট’ রাজনৈতিক ধারার উত্থানকে পশ্চিমা দেশ ও মুসলিম বিশ্ব ইতিবাচকভাবে দেখছে—ভারত ছাড়া। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে ভারত তুলনামূলকভাবে একা হয়ে পড়ছে বলে মত প্রকাশ করছেন তারা।
এ অবস্থায় রাশিয়া ভারতের পাশে অবস্থান নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঢাকায় নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন সম্প্রতি এক বক্তব্যে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা দ্রুত কমানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যাতে দুই দেশের সম্পর্ক রাশিয়া-ইউক্রেন পরিস্থিতির মতো পরিণতির দিকে যায়। একই সঙ্গে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারত ও রাশিয়ার যৌথ ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন। কূটনৈতিক ভাষায় দেওয়া এই বক্তব্যকে কেউ কেউ পরোক্ষ চাপ বা সতর্কবার্তা হিসেবেও দেখছেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে বাংলাদেশের জন্য ভারতের সম্ভাব্য ‘ফার্স্ট স্ট্রাইক’ প্রতিহত করা কঠিন হতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাও আলোচনায় এসেছে। বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র চায় ভারত শক্তিশালী থাকুক, তবে চীনের মতো পরাশক্তিতে পরিণত না হোক। ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের অংশ হিসেবে ভারতকে কেন্দ্রীয় ভূমিকা দিলেও, অতিরিক্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠা ভারতের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার আগ্রহ যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে কিছু কৌশলগত সুপারিশও আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে—ভারতের সামরিক তৎপরতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করা, আধুনিক যুদ্ধবিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে সমর্থন আদায়, প্রতিরক্ষা সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং ড্রোন ও মাইক্রোচিপ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো। একই সঙ্গে প্রশাসন ও নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরে বিদ্যমান রাজনৈতিক প্রভাব দূর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশকে সময়োপযোগী ও বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে জাতীয় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।







