বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। সমঝোতার অংশ হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম যেসব আসনে প্রার্থী দেবে, সেসব আসনে বিএনপি প্রার্থী দেবে না। একইভাবে বিএনপির নির্ধারিত আসনগুলোতেও প্রার্থী দেবে না জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম।
বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দল দুটির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও ভোটের বিভাজন রোধের লক্ষ্যে এ সমঝোতা হয়েছে।
সমঝোতা অনুযায়ী বিএনপি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে চারটি সংসদীয় আসন ছেড়ে দিচ্ছে। আসনগুলো হলো— নিলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা), নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা), সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ)। এসব আসনে জমিয়তের প্রার্থীরা যথাক্রমে মাওলানা মো. মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মুফতী মনির হোসাইন কাসেমী, মাওলানা মো. উবায়দুল্লাহ ফারুক এবং মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব নির্বাচন করবেন।
তবে বিএনপির সমর্থন পেলেও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম নেতারা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবেন না। নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, তাঁদের নিজ নিজ দলীয় প্রতীক ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৩ অক্টোবর নির্বাচনী জোট গঠনের পর নির্বাচনসংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের খসড়া অনুমোদন করে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। সংশোধনীতে বলা হয়, জোটভুক্ত হলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের নিজ দলের প্রতীকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই সমঝোতার মাধ্যমে আসন্ন নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সমন্বিত কৌশল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
