শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হত্যাকারী, সহযোগী ও প্রশ্রয়দাতাদের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিবৃতিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ওসমান হাদির হত্যার বিচার চাওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত রাষ্ট্রীয়ভাবে হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়নি। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতার কারণে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তারা বলেন, সাংবাদিকতা ও বিভিন্ন অনুসন্ধানী সূত্রে যেসব নাম উঠে এসেছে, সেগুলোর ভিত্তিতে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
বিবৃতিতে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন— ফয়সাল করিম মাসুদ (আওয়ামী লীগ নেতা ও শ্যুটার), আলমগীর শেখ (ফয়সাল করিম মাসুদের মোটরসাইকেল চালক), জাকির হোসেন ওরফে জিন জাকির (ফয়সালের সহযোগী) এবং ফিলিপ (অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে অভিযুক্ত)। এদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার, বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন— মো. মাহফুজার রহমান (বিএনপি নেতা ও আইনজীবী), ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও আইনজীবী), বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলী (সুপ্রিম কোর্টের বিচারক), শাহেদ আলম (সাংবাদিক ও বিএনপি এক্টিভিস্ট), আনিস আলমগীর (সাংবাদিক), আব্দুন নূর তুষার (সঞ্চালক ও বিএনপি এক্টিভিস্ট) এবং ডা. আসিফ সৈকত (চিকিৎসক ও বিএনপি এক্টিভিস্ট)। অভিযোগে বলা হয়েছে, কেউ কেউ আইনি সহায়তার মাধ্যমে এবং কেউ কেউ মতামত গঠন করে হত্যাকাণ্ডে সহায়তা করেছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হত্যাকারীদের প্রশ্রয়দাতা হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডে সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত দলীয় নেতা ও এক্টিভিস্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাঁদের কাছ থেকে কৈফিয়ত চাওয়া উচিত।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অগ্রগতি নিয়ে জনমনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।







