স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলীলের নিয়োগের খবরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সমালোচকদের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড ঘিরে সরকারের ব্যর্থতার বড় অংশের দায় বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ওপর বর্তায়। সেই প্রেক্ষাপটে একই ব্যক্তিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া ‘ব্যর্থতার পুরস্কার’ বলেও আখ্যা দিচ্ছেন অনেকে।
সমালোচনায় বলা হচ্ছে, হাদি হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন এনে খলীলকে দায়িত্ব দেওয়াকে ঘটনার ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ।
আরও অভিযোগ উঠেছে, খলীল একজন বিদেশি নাগরিক এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত যোগাযোগ রয়েছে—এমন দাবি তুলে বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর দূরত্ব বৃদ্ধি, আরাকান করিডর ইস্যু এবং পার্বত্য এলাকায় অস্ত্রের তৎপরতা বৃদ্ধির মতো ঘটনাগুলোর সঙ্গেও তার ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে এই পরিবর্তন নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
