হবিগঞ্জের মাধবপুরে বিএনপি নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এক পরিবারের প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের কৃষিজমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও জমিটি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য ও ছাতিয়াইন ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরী কাসেদ এবং তার সহযোগীরা ছাতিয়াইন গ্রামের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য অলক সরকারের পৈতৃক জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন। জমিটি ছাতিয়াইন মৌজায় অবস্থিত ১৮ শতাংশ কৃষিজমি, যার বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, দুই দফায় ওই জমিতে মাটি ভরাট করা হয় এবং বাঁশের বেড়া দিয়ে দখলের চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে প্রকাশ্যে হত্যা ও দেশত্যাগের হুমকি দেওয়া হয়। অলক সরকার জানান, বিষয়টি একাধিকবার মাধবপুর থানা ও ছাতিয়াইন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর আইনগত সুরক্ষা পাননি। পুলিশ পক্ষ থেকে ঘর নির্মাণ হলে জানাতে বলা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
এ ঘটনায় অলক সরকার গত ৩০ নভেম্বর মাধবপুর থানায় চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরী কাসেদসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দ্য হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনোরিটিস (এইচআরসিবিএম)-এর সিলেট বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর রাকেশ রায়।
অলক সরকার বলেন, জমিটির বৈধ দলিল তাদের নামে রয়েছে এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করা হচ্ছে। এরপরও চেয়ারম্যান তার লোকজন দিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছেন এবং আপস-মীমাংসার জন্য চাপ দিচ্ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ছাতিয়াইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরী কাসেদ বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার দাবি, উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারই ভুয়া কাগজ দিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছে এবং একটি কুচক্রী মহল তাকে জড়িয়ে ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় তিনি সবসময় সচেতন।
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ বিন কাসেম বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাবুব মোরশেদ খান জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







