জুলাই যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্র-জনতা। একই সঙ্গে সরকারের অবহেলা ও বিলম্বিত তদন্ত এই সন্দেহকে আরও জোরদার করছে বলে দাবি করা হয়।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের সামনের প্রাঙ্গণ থেকে ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি আন্দরকিল্লা থেকে চেরাগী পাহাড় মোড় হয়ে জামালখান এলাকার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিল চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা ‘হাদির হত্যাকারীদের বিচার চাই’, ‘আধিপত্যবাদ মানি না’, ‘রুখে দাঁড়াও জনগণ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরো পথজুড়ে পুলিশ যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।
মিছিলে অংশ নেওয়া কয়েকজন বলেন, সরকার ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর যোগসাজশে হাদিকে হত্যা করা হয়েছে—এমন সন্দেহ এখন অনেকের মধ্যেই তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, তদন্ত যদি স্বচ্ছ ও আন্তরিক হতো, তবে তিন সপ্তাহেও অপরাধীরা ধরা না পড়ার প্রশ্ন উঠত না।
মিছিল শেষে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জুলাই ঐক্যের সংগঠক আবরার হাসান রিয়াদ বলেন, তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও হাদি হত্যার মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। একটি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এমন নীরবতা ও বিলম্ব স্বাভাবিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রিয়াদের ভাষ্য, এ ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ওসমান হাদি শুধু একজন কর্মী ছিলেন না; তিনি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো তরুণ প্রজন্মের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। তার মৃত্যু তরুণদের আরও সংগঠিত হওয়ার বার্তা দিচ্ছে।
ইনকিলাব মঞ্চ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক রাফসান রাকিব বলেন, শহীদ হাদির আদর্শ কোনো দলীয় সীমার মধ্যে আবদ্ধ নয়; এটি স্বাধীনতার চেতনা ও আত্মমর্যাদার বহিঃপ্রকাশ। আধিপত্যবাদবিরোধী এই সংগ্রাম থেমে থাকার নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, হাদি হত্যার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে তরুণদের প্রতিবাদী সমাবেশ বাড়ছে, যা তার ভাবধারারই প্রতিফলন।
সমাবেশে তৌফিক ইমরোজ, এস এম শহিদ, আল মামুনসহ সংগঠনের আরও কয়েকজন নেতা বক্তব্য দেন। তারা বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ড তরুণ সমাজে গভীর ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। বক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রক্ত দিয়ে গড়ে ওঠা হাদির স্মৃতি মুছে ফেলা যাবে না এবং তার নামে অন্যায়ের বিরুদ্ধে নতুন সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠবে।
মিছিল ও সমাবেশে ‘হাদি ভাই মরল কেন, ইন্টেরিম জবাব দে’, ‘আমরা সবাই হাদি হবো’, ‘আওয়ামী লীগের আস্তানা ভাঙো’, ‘রুখে দাও ভারতীয় আগ্রাসন’সহ বিভিন্ন স্লোগান শোনা যায়।







