ইরানে চলমান বিক্ষোভ ও দাঙ্গা গতকাল নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে। নিরাপত্তা সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর পাঁচ দিনের মধ্যে গতকালের সহিংসতাই ছিল সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী। বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থার সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাধারণ দাঙ্গা-নিয়ন্ত্রণ পুলিশ ব্যর্থ হওয়ায় তাদের প্রত্যাহার করে NOPO নামে পরিচিত বিশেষ অপারেশন বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এই বাহিনী কঠোর দমন-পদ্ধতির জন্য পরিচিত। জানা গেছে, NOPO-এর কমান্ডার যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত। অভিযানের সময় বহু দাঙ্গাকারী গুলিবিদ্ধ ও গ্রেপ্তার হয়েছে। নিহতদের একটি বড় অংশ সরকারি ও পুলিশ ভবন থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল বলে নিরাপত্তা সূত্র দাবি করেছে।
নিরাপত্তা কাঠামোর দিক থেকে ইরানের বিশেষ ইউনিট চারটি ব্যাটালিয়নে বিভক্ত— ইমাম আলী, মুসা ইবনে জাফর, ইমাম খোমেনি ও ইমাম হুসেইন। এসব ব্যাটালিয়নে মোট প্রায় তিন লাখ সশস্ত্র সদস্য রয়েছে। এর বাইরে প্রায় ৬০ হাজার সদস্যের দুটি বাহিনী রয়েছে, যার মধ্যে একটি নিয়মিত দাঙ্গা-নিয়ন্ত্রণ পুলিশ এবং অন্যটি বিশেষ অপারেশন ইউনিট NOPO।
গতকালের সহিংসতা ‘কোড–২’ পর্যায়ে পৌঁছানোর পরই NOPO মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হলে তা ‘কোড–৩’ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারত এবং সে ক্ষেত্রে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC) সরাসরি রাস্তায় নামানোর ঝুঁকি তৈরি হতো।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, NOPO অধিকাংশ দাঙ্গা ও সংঘর্ষ দমন করতে সক্ষম হয়েছে। কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ চললেও সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ পর্যন্ত বহু মানুষ গুলিবিদ্ধ ও আটক হয়েছে।
এদিকে ইরানের গণমাধ্যমগুলো ব্যাপক ভুল তথ্য ও অতিরঞ্জিত দাবি ছড়ানোর বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান রাষ্ট্রব্যবস্থার পতনের মুখে নেই। তারা উল্লেখ করে, ২০২২ সালের আন্দোলন ছিল এর চেয়ে অনেক বড় পরিসরের, আর এবার নিরাপত্তা বাহিনী তুলনামূলকভাবে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে।
