বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া–টুঙ্গিপাড়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিকের বিরুদ্ধে মনোনয়নপত্রে ভোটারদের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা একটি তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছেন।
জানা যায়, গত ২৯ ডিসেম্বর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক। নির্বাচনী বিধান অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে সংশ্লিষ্ট আসনের মোট ভোটারের অন্তত ১ শতাংশের স্বাক্ষরসহ মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হয়। তিনি প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্বাক্ষর দেখিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও অভিযোগ উঠেছে, তালিকাভুক্ত স্বাক্ষরের মধ্যে একাধিকটি জাল।
সরেজমিনে তদন্তে কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ও রাধাগঞ্জ ইউনিয়নে গিয়ে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের টিকরীবাড়ি গ্রামের মিলন সেনের স্ত্রী যমুনা সেন বলেন, প্রশাসনের লোকজন তার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক নামে কাউকে তিনি চেনেন না এবং কোনো কাগজে স্বাক্ষরও দেননি। মনোনয়নপত্রে তার স্বাক্ষর থাকলে সেটি জাল করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
একই ধরনের অভিযোগ করেন রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের গোলাবাড়ি গ্রামের সুনীল বাড়ৈর স্ত্রী উষা বাড়ৈ। তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় ছেলের বাসায় ছিলেন। গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক নামে কাউকে তিনি চেনেন না এবং তার কোনো কাগজে স্বাক্ষরও করেননি। অথচ মনোনয়নপত্রে তার স্বাক্ষর রয়েছে বলে জানতে পেরেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, তার পক্ষে যারা স্বাক্ষর দিয়েছেন, তারা সবাই সঠিকভাবেই স্বাক্ষর করেছেন। জাল স্বাক্ষরের অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাগুফতা হক জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রে দেওয়া স্বাক্ষরগুলো যাচাই করে একটি তদন্ত প্রতিবেদন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা গ্রহণ করবেন বলে তিনি জানান।







