চট্টগ্রামের রাউজানে দুর্বৃত্তের গুলিতে জানে আলম নামে এক যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নে নিজ বাড়ির সামনে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাউজান উপজেলায় রাজনৈতিক সহিংসতায় মোট হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা দাঁড়াল ১৮টিতে।
নিহত জানে আলম রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গিয়াস কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি রাউজান উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে তেমন জড়িত ছিলেন না। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তার কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না এবং কেন তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলো, তা তারা বুঝতে পারছেন না।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতের খাবারের আগে জানে আলম বাড়ির গেটের সামনে উঠানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে করে তিনজন সেখানে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মোটরসাইকেলের পেছনে বসা একজন খুব কাছ থেকে তার বুকে পরপর দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। এখন পর্যন্ত হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, রাউজানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রাজনৈতিক সহিংসতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই সময়ের মধ্যে উপজেলাটিতে অন্তত ১৮টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১৩টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত। বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে শতাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এবং এসব ঘটনায় ৩৫০ জনের বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
এই সময়কালে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট অপহরণের পর হত্যা করা হয় আবদুল মান্নানকে। ১ সেপ্টেম্বর ইউসুফ মিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। ১১ নভেম্বর নিখোঁজের তিন দিন পর উদ্ধার হয় হাফেজ আবু তাহেরের মরদেহ। ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি নোয়াপাড়ায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় মো. জাহাঙ্গীর আলমকে। ১৯ ফেব্রুয়ারি পিটিয়ে হত্যা করা হয় মুহাম্মদ হাসানকে। ১৫ মার্চ ইফতার বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে নিহত হন কমর উদ্দিন জিতু।
এ ছাড়া ২১ মার্চ পূর্ব গুজরায় গণপিটুনিতে নিহত হন মো. রুবেল, ১ এপ্রিল জমি বিরোধে খুন হন নূর আলম বকুল, ১৭ এপ্রিল পাহাড়তলী ইউনিয়নে উদ্ধার হয় মো. জাফরের লাশ। এপ্রিল মাসেই নিজ দলের লোকজনের গুলিতে নিহত হন বিএনপিকর্মী মানিক আবদুল্লাহ। এরপর ২২ এপ্রিল গাজিপাড়ায় ইব্রাহিম, ৩ জুলাই উরকিরচরে মো. আলমগীর, ৬ জুলাই কদলপুরে মুহাম্মদ সেলিম, ১০ জুলাই বেতবুনিয়ায় দিদারুল আলম, ২৫ জুন যুগীপাড়া বোটঘাট এলাকায় রুপন নাথ এবং ৭ অক্টোবর বিএনপিকর্মী মুহাম্মদ আবদুল হাকিম নিহত হন। সর্বশেষ ২৫ অক্টোবর যুবদলের কর্মী মুহাম্মদ আলমগীর আলমকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
নিহতদের অধিকাংশই বিএনপির নেতাকর্মী হলেও কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীও রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
