ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রার্থিতা গ্রহণ ও বাতিলসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মোট ৬১০টি আপিল আবেদন নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা পড়েছে। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে করা হয়েছে ৬০০টি এবং মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিপক্ষে করা হয়েছে ১০টি আপিল।
শুক্রবার ছিল আপিল আবেদনের শেষ দিন। সন্ধ্যা পৌনে ৭টা পর্যন্ত ওই দিন ১৪১টি আবেদন জমা পড়ে। এ সময় অনেক আবেদনকারীকে ইসির বুথের সামনে আবেদন দাখিলের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়।
এসব আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন ভবনের বেজমেন্টে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসিরউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশন আগামী শনিবার থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল শুনানি গ্রহণ করবেন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুই দফায় বিকেল ৪টা পর্যন্ত শুনানি চলবে। আবেদন জমার ক্রমানুসারে শুনানি হবে এবং দৈনিক গড়ে প্রায় ৭০টি করে আপিল শুনানি হতে পারে বলে ইসির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ দিনে ইসির স্থাপিত বুথগুলোতে মোট ৬১০টি আপিল আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে প্রথম দিনে ৪২টি, দ্বিতীয় দিনে ১২২টি, তৃতীয় দিনে ১৩১টি, চতুর্থ দিনে ১৭৪টি এবং পঞ্চম ও শেষ দিনে ১৪১টি আবেদন জমা দেওয়া হয়।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে স্থাপিত ১০টি আঞ্চলিক বুথে প্রার্থীরা তাদের আইনজীবীদের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে আপিল আবেদন জমা দেন। যেসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তারা প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার জন্য আপিল করেছেন। অপরদিকে, যাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষ থেকে আপিল করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, আপিলকারীদের বড় অংশই মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া স্বতন্ত্র ও রাজনৈতিক দলের প্রার্থী। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে কয়েকটি অঞ্চলে বৈধ ঘোষিত ১০ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলের দাবিতেও আপিল আবেদন জমা পড়েছে।
উল্লেখ্য, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা মোট ৭২৩ জন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করেন। এতে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৪২ জন।
