বিয়ে ইসলামে শুধু একটি সামাজিক চুক্তি নয়; বরং এটি শান্তি, ভালোবাসা ও ইবাদতের এক পবিত্র বন্ধন। এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক যেন স্থায়ী ও কল্যাণকর হয়— সেই জন্য ইসলাম শুরু থেকেই বাস্তবতা, স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক পছন্দকে গুরুত্ব দিয়েছে।
তাই বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রী একে অন্যকে দেখে নেওয়ার বিষয়ে ইসলাম সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে, যা শালীনতা ও শরিয়তের সীমার ভেতর থেকেই পালনযোগ্য। পাত্র-পাত্রী পরস্পরকে পছন্দ হোক কিংবা না হোক তাদের মাঝে উপহার সামগ্রী বা টাকা-পয়সা বিনিময় হওয়া- জানার বিষয় হলো বিয়ের আগে পাত্রী দেখার বিধান কী? বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীর উপহার বিনিময় কি জায়েজ?
বিয়ের আগে দেখা—জায়েজ ও সুন্নত
কোনো পুরুষ যদি কোনো নারীকে বিয়ে করার ইচ্ছা পোষণ করে, তাহলে তার জন্য ওই নারীকে দেখে নেওয়া জায়েজ, বরং সুন্নত। একইভাবে কনেও চাইলে হবু বরকে দেখে নিতে পারে। এতে ভবিষ্যৎ দাম্পত্য জীবনে ভুল বোঝাবুঝি ও অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা কমে আসে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের বিয়ের আগে কনেকে দেখে নেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ দিতেন। হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمُ الْمَرْأَةَ فَإِنِ اسْتَطَاعَ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى مَا يَدْعُوهُ إِلَى نِكَاحِهَا فَلْيَفْعَلْ
‘তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেবে, তখন যদি সম্ভব হয়, সে যেন তার এমন কিছু বৈশিষ্ট্য দেখে নেয়, যা তাকে বিয়েতে আগ্রহী করে তোলে।’ (আবু দাউদ ২০৮২)
আরও পড়ুন
হজরত মুগিরা ইবনে শোবা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
خَطَبْتُ امْرَأَةً، فَقَالَ لِيَ النَّبِيُّ ﷺ: أَنَظَرْتَ إِلَيْهَا؟ قُلْتُ: لَا. قَالَ: انْظُرْ إِلَيْهَا فَإِنَّهُ أَحْرَى أَنْ يُؤْدَمَ بَيْنَكُمَا
‘আমি এক নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলাম। তখন নবী (সা.) আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি তাকে দেখেছ? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তাকে দেখে নাও। কেননা এতে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতি স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’ (তিরমিজি ১০৮৭)
শালীনতার সীমারেখা: কী জায়েজ, কী নাজায়েজ
- বিয়ের উদ্দেশ্যে দেখা ও সীমিত কথা বলা জায়েজ
- একে অন্যকে স্পর্শ করা নাজায়েজ
- দেখা হওয়ার সময় হাত মেলানো জায়েজ নয়
- সাক্ষাৎ হতে হবে শালীন পরিবেশে, ফিতনা ও গোপনীয়তা এড়িয়ে
ইসলাম এখানে স্বাধীনতা দিয়েছে, আবার শালীনতার শক্ত সীমারেখাও টেনে দিয়েছে।
উপহার দেওয়া-নেওয়ার বিধান
আমাদের সমাজে পাত্রী দেখার সময় টাকা বা উপহার দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। শরিয়তের দৃষ্টিতে—
- পাত্রী দেখার সময় উপহার দেওয়া জায়েজ
- হবু বর-কনের মধ্যে উপহার বিনিময়ও জায়েজ
- তবে এসব যেন চাপ, শর্ত বা লেনদেনের রূপ না নেয়—সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি
ইসলাম বিয়েকে সহজ, বাস্তবমুখী ও কল্যাণকর করতে চায়। তাই বিয়ের আগে বর-কনের একে অন্যকে দেখে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে— যাতে ভবিষ্যৎ জীবন হয় ভালোবাসা, প্রশান্তি ও দায়িত্ববোধে ভরপুর। তবে এই অনুমতির সঙ্গে শালীনতা, সংযম ও আল্লাহভীতির সীমা অটুট রাখা অপরিহার্য। শরিয়তের পথনির্দেশনা মেনে চললেই বিয়ে হবে রহমতের দুয়ার, অশান্তির কারণ নয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সুন্নাহসম্মত পথে কল্যাণকর দাম্পত্য জীবনের তাওফিক দান করুন। আমিন।







