২০১৮ সালের বিতর্কিত ‘রাতের ভোটে’ বড় ভাইয়ের প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচিত হয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়া ড. এ কে আব্দুল মোমেন ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র–জনতার ওপর হামলা ও গুলি বর্ষণ সংক্রান্ত মামলার আসামি। শেখ হাসিনার পতনের পর তিনি দীর্ঘ সময় দেশে আত্মগোপনে ছিলেন এবং পরে গোপন পথে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান বলে নিজেই স্বীকার করেছেন।
সম্প্রতি সাংবাদিক সুলতানা রহমানের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল টক শোতে অংশ নিয়ে ড. মোমেন আত্মগোপনে থাকা, ছদ্মবেশ ধারণ এবং দেশ ছাড়ার অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সরকার পতনের পর অন্যান্য মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের মতো তাকেও আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হতে হয়। গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় তিনি একাধিকবার বাসা পরিবর্তন করেন, ছয়বার মোবাইল সিম বদলান এবং নিজের চেহারাও পরিবর্তন করেন।
ড. মোমেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের ছোট ভাই। তিনি ২০১৮ সালে সিলেট-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও নতুন মন্ত্রিসভায় তাকে রাখা হয়নি।
টক শোতে তিনি বলেন, আত্মগোপনে থাকার সময় আত্মীয়স্বজনের বাসায় না থেকে বিভিন্ন ভাড়া বাসায় অবস্থান করতেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বাসা মূলত বিদেশি ক্রেতাদের জন্য প্রস্তুত রাখা হতো, কিন্তু দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সেগুলো ফাঁকা থাকায় সেখানে থাকা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ছিল। গ্রেপ্তার এড়াতে নাপিত আনার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ড. মোমেন জানান, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ব্যবস্থা মূলত তার স্ত্রী সেলিনা মোমেন করে দেন। আত্মগোপন ও দেশ ছাড়ার পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি সরকারি পর্যায়ের কিছু লোকের সহযোগিতা পেয়েছেন বলেও স্বীকার করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, বিমানবন্দর ব্যবহার করে তিনি দেশ ছাড়েননি এবং কোন পথে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে অস্বীকৃতি জানান।
তিনি আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের ঠিক আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন এবং কয়েকদিন আগে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটলে তাকেও আত্মগোপনে যেতে হয়। পালিয়ে থাকার অভিজ্ঞতাকে তিনি “একটি সিনেমার গল্পের মতো” বলে উল্লেখ করেন এবং নিজেকে দেশ ছাড়াদের মধ্যে শেষ দিকের একজন হিসেবে দাবি করেন।
সবশেষে ড. এ কে আব্দুল মোমেন দাবি করেন, তিনি কোনো অনিয়ম বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।







