গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী নুরুল হক নুরের সঙ্গে তিন দফা মোসাদ (ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা)–এর বৈঠক হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দেওয়া ড. রেজা কিবরিয়া মন্তব্য করেন, এমন দলে তাঁর পক্ষে থাকা সম্ভব নয়। ড. রেজা কিবরিয়া হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ–বাহুবল) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী। তাঁর ওই বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন নুরুল হক নুর।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নুর বলেন, ড. রেজা কিবরিয়া একজন শিক্ষিত ও ভদ্র মানুষ হলেও বাংলাদেশের রাজনীতির বাস্তবতা সম্পর্কে তিনি অযোগ্য। রাজনীতি ও সমাজ সম্পর্কে তাঁর পর্যাপ্ত ধারণা নেই। তিনি মূলত এলিট শ্রেণির মানুষের সঙ্গে চলাফেরা ও পার্টি–ড্রিংকসে অভ্যস্ত, যা বাংলাদেশের রাজনীতি বোঝার জন্য যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন নুর।
নুর আরও বলেন, জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে তাঁরা মুরব্বি হিসেবে মানতেন। মৃত্যুশয্যায় থেকেও হাতে ক্যানোলা নিয়ে তিনি ছাত্রদের কর্মসূচিতে অংশ নিতেন এবং তাঁদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করতেন। তাঁরা ভেবেছিলেন, ড. রেজা কিবরিয়াও তেমনভাবেই কাজ করবেন।
কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, ড. রেজা কিবরিয়া কারও সঙ্গে হাত মেলাতেও দ্বিধা করতেন—কারও হাতে জীবাণু আছে কি না, এমন চিন্তাভাবনা তাঁর মধ্যে কাজ করত। এমনকি দলের প্রধান হয়েও তিনি নিয়মিত অফিসে যেতেন না। নুরের দাবি, তাঁর প্রত্যাশা ছিল দল তাঁকে আর্থিক সহায়তা দেবে।
ইসরাইলি ফান্ডের অভিযোগ প্রসঙ্গে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুর বলেন, এটি সম্পূর্ণ প্রোপাগান্ডা। ইসরাইল কেন তাঁদের ফান্ড দেবে—এ প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ইসরাইলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অন্যান্য মামলার মতোই তৎকালীন গোয়েন্দা সংস্থা ও আওয়ামী লীগের সাজানো প্রচারণা। কারণ, তাঁরা সরকারবিরোধী একটি শক্তি হিসেবে তখন মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছিলেন।
নুর আরও দাবি করেন, শওকত মাহমুদের গ্রেপ্তারের পেছনে ড. রেজা কিবরিয়া মাস্টারমাইন্ড ছিলেন বলে তিনি বিএনপির নীতিনির্ধারকদের আগেই জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রেজা কিবরিয়াকে ধানের শীষে মনোনয়ন দেওয়া হলেও শওকত মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়। নুরের ভাষায়, রেজা কিবরিয়া ছিলেন শওকত মাহমুদের রাজনৈতিক গুরু।
এ সময় তিনি বিএনএম পার্টি গঠনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বিএনপিকে আওয়ামী লীগের আমলে ভেঙে নির্বাচনে নেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বিএনএম গঠিত হয়েছিল। মন্ত্রিপাড়া থেকে গ্রেপ্তার হওয়া মাসুদ করিমসহ সংশ্লিষ্টদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিএনপিকে দুর্বল করা।
ড. রেজা কিবরিয়ার সুস্থতা কামনা করে নুর বলেন, তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং গ্রামীণ সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে রাজনীতি করার মতো মানসিকতা তাঁর নেই। রাজনৈতিক স্থিরতার অভাবের কারণে তিনি বিভিন্ন দলে যুক্ত হলেও কোথাও টেকেননি। শেষ পর্যন্ত তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। নুরের মতে, এত ঘুরপথে না গিয়ে শুরুতেই বিএনপিতে যোগ দিতে পারতেন।
নুর আরও বলেন, তিনি শুনেছেন ড. রেজা কিবরিয়া একসময় জামায়াতে ইসলামীতেও যোগ দিতে চেয়েছিলেন এবং এর আগে তাদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তাও নিয়েছিলেন। তবে জামায়াত তাঁকে গ্রহণ করেনি। নুরের ভাষায়, জামায়াত একটি আদর্শভিত্তিক দল, যেখানে নির্দিষ্ট নীতি ও শৃঙ্খলা রয়েছে।
