লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে যাওয়াকে সাধারণভাবে ফ্যাটি লিভার এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় মেটাবলিক ডিসফাংশন–অ্যাসোসিয়েটেড স্টিটোটিক লিভার ডিজিজ (MASLD) বলা হয়। কিছু অনিয়ন্ত্রিত অভ্যাসের কারণে এ রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এই অবস্থায় লিভারের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং ধীরে ধীরে প্রদাহ ও কোষের ক্ষতি শুরু হয়। ফলে প্রশ্ন ওঠে, ফ্যাটি লিভার থেকে কি লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে?
এ বিষয়ে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. সন্দীপ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমতে থাকলে সেখান থেকে ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বর্তমানে নানাবিধ পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অনেকের শরীরেই ফ্যাটি লিভার শনাক্ত হচ্ছে। অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড গ্রহণের ফলে লিভারে চর্বি জমে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়।
তিনি জানান, লিভারের যথাযথ যত্ন না নিলে এর মূল্য দিতে হয় ভবিষ্যতে। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের মধ্যে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বেশি। পাশাপাশি নিয়মিত রেড মিট, চিজসহ চর্বিযুক্ত খাবার অতিরিক্ত গ্রহণ করলেও এ রোগের সম্ভাবনা বাড়ে।
ডা. সন্দীপ গঙ্গোপাধ্যায় আরও বলেন, ফ্যাটি লিভারকে সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা করা মোটেও নিরাপদ নয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা না নিলে এটি ধীরে ধীরে গুরুতর লিভার রোগে রূপ নিতে পারে এবং এক পর্যায়ে ক্যানসারের ঝুঁকিও তৈরি হয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিভারে অতিরিক্ত ফ্যাট জমলে সেখানে প্রদাহ দেখা দেয়, যা থেকে নন-অ্যালকোহলিক স্টিয়াটোহেপাটাইটিস (NASH) হতে পারে। এ অবস্থাকে যত বেশি অবহেলা করা হবে, ক্যানসারে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিও তত বাড়বে।
তিনি বলেন, ফ্যাটি লিভার অবহেলা করলে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ১৫ জনের লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি কেউ যদি মদপান না করেন বা হেপাটাইটিসে আক্রান্ত না হন, তবুও ফ্যাটি লিভার থেকে সিরোসিস হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ১৫ শতাংশ। আর যাদের সিরোসিস হয়, তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তীতে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে দাঁড়ায় ২০–৩০ শতাংশে। ফলে শুধু মদ না খেলেই সিরোসিস হবে না— এমন ধারণা সঠিক নয়।
ডা. সন্দীপ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, শুধুমাত্র ফ্যাটি লিভার থেকেও সিরোসিস হতে পারে এবং সেখান থেকেই ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই ফ্যাটি লিভারকে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই এ রোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
