ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল আবুলফজল শেখারচি বলেছেন, খামেনির দিকে কেউ হাত বাড়ালে সেই হাত কেটে ফেলা হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে চলমান অস্থিরতার জন্য খামেনিকে দায়ী করে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের সময় এসেছে—এমন মন্তব্য করার পরই তেহরান থেকে এই কড়া প্রতিক্রিয়া আসে। জেনারেল শেখারচি বলেন, সর্বোচ্চ নেতাকে নিশানা করা হলে তার প্রতিক্রিয়া কেবল ইরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর আগুন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে।
একই সঙ্গে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশন এক বিবৃতিতে জানায়, খামেনির ওপর হামলা ইসলামি বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল হবে। এমন পরিস্থিতিতে ইসলামি আলেমদের পক্ষ থেকে জিহাদের ফতোয়া জারি হতে পারে এবং বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।
এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, সর্বোচ্চ নেতার ওপর যেকোনো আগ্রাসন মানেই ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ। তিনি এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
এদিকে ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগে জরুরি বিশেষ অধিবেশন ডেকেছে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ। ব্রিটেন, জার্মানি, আইসল্যান্ড, মলদোভা ও নর্থ মেসিডোনিয়ার অনুরোধে এ অধিবেশন আহ্বান করা হয়। পাঁচ দেশ পাঠানো চিঠিতে দেশজুড়ে সহিংসতা, বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি সত্ত্বেও ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করার কোনো কারণ দেখছে না মস্কো।
