বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কোনো একক দলের শাসন নয়—দেশে প্রতিষ্ঠা করতে হবে জনগণের শাসন। যেখানে আলেম-ওলামা, দেশপ্রেমিক মানুষ ও সব শ্রেণি-পেশার নাগরিক একসঙ্গে থাকবেন এবং কোনো ধরনের আধিপত্যবাদ মেনে নেওয়া হবে না। সবাইকে নিয়েই আগামীর বাংলাদেশ গড়া হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চায়, তবে এর জন্য তিনটি শর্ত মানতে হবে—নিজে দুর্নীতি করা যাবে না, কোনো দুর্নীতিবাজকে আশ্রয় দেওয়া যাবে না এবং গরিব-ধনী, নারী-পুরুষ, সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন রাখা হবে এবং সেখানে কোনো রাজনীতিবিদের হস্তক্ষেপ থাকবে না।
তিনি বলেন, একা কোনো দল বাংলাদেশ গড়তে পারবে না। এজন্য এবার শুধু জামায়াতে ইসলামী নয়, বাংলাদেশের মুক্তিকামী ১০ দলীয় জোটকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেই নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বেকার ভাতা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, কেউ কেউ ক্ষমতায় গেলে বেকার ভাতা দেওয়ার কথা বলছেন। আমরা কারও হাতে অসম্মানের চাবি তুলে দিতে চাই না; আমরা মানুষকে সম্মানের কাজ তুলে দিতে চাই।
দেশের দীর্ঘ ৫৪ বছরের রাজনৈতিক বাস্তবতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বস্তাপচা রাজনীতি, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের মাধ্যমে দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং বৈষম্যের অবসান ঘটাতে হবে।
উত্তরবঙ্গ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকেই এই অঞ্চলকে ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। অথচ উত্তরবঙ্গই দেশের খাদ্য ও পুষ্টির বড় যোগানদাতা। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, আগামী দিনে উত্তরবঙ্গ থেকে আর কোনো বেকারের মুখ দেখতে চান না। প্রত্যেক যুবক-যুবতীকে মর্যাদার কাজের মাধ্যমে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি বন্ধ থাকা চিনিকলগুলো চালু করে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানে ফিরিয়ে আনার কথাও জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের কোনো কার্ড নেই—জনগণই তাদের কার্ড। জনগণের ভালোবাসা, সমর্থন ও দোয়ায় একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। তিনি দাবি করেন, বিপদের সময় দেশবাসীকে ফেলে তারা কোথাও যাননি এবং ভবিষ্যতেও যাবেন না।
স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য উত্তরবঙ্গের মানুষকে ঢাকায় যেতে হয়, যা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। জামায়াত সরকার গঠনের সুযোগ পেলে দেশের কোনো জেলাই মেডিকেল কলেজবিহীন থাকবে না এবং ঠাকুরগাঁওয়ে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে।
অর্থনৈতিক দুর্নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, দেশ থেকে লুট হয়ে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার করা হবে এবং ভবিষ্যতে কাউকে আর লুটপাট করতে দেওয়া হবে না।
ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারা মানুষের অধিকার রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বৈষম্য, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও স্বৈরতন্ত্রের অবসান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও তিনি জানান।
জনসভায় জামায়াতে ইসলামী ও ১০ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ ঠাকুরগাঁও জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।







