ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বা হাতপাখা প্রতীকের বাক্সই বাংলাদেশের একমাত্র ইসলামের ব্যালট বাক্স—এমন মন্তব্য করেছেন দলটির আমির ও চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে বিএনপির এক বড় নেতা তাকে ফোন করে বলেছেন, ‘হজরত, দরজা খোলা’। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতার দরজা খোলার জন্য রাজনীতি করে না, বরং এ দেশের মানুষের ও ইসলামের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলার পাড় এলাকায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি ঢাকা-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাজী মো. ইবরাহীমকে পরিচয় করিয়ে দেন।
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, সংসদে যাওয়ার সুযোগ অতীতেও ছিল, এখনো আছে। তবে এমপি হওয়া, মন্ত্রিত্ব পাওয়া বা সম্মান ও সম্পদের জন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজনীতি করে না। তিনি বলেন, তিনি এ দেশের সন্তান হিসেবে দেশের ভালো হওয়ার বিষয়ে চিন্তা করেন এবং সেই চিন্তার ফল হিসেবেই দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, যারা এক পথে চলার সাথীদের সঙ্গে ধোঁকাবাজি ও প্রতারণা করতে পারে, তাদের হাতে মানুষ ও দেশ নিরাপদ নয়। নাম উল্লেখ না করে তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতালোভী একটি গোষ্ঠী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন দেখে আবারও জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার নীলনকশা তৈরি করেছে।
ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, ‘ইসলামের পক্ষে একটি বাক্স’—এই ঘোষণা নিয়ে দলটি মাঠে নামার পর মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। আল্লাহর রহমতে এখন বাংলাদেশে ইসলামের পক্ষে একটিই ব্যালট বাক্স রয়েছে, সেটি হলো হাতপাখা প্রতীকের বাক্স। ইসলামের পক্ষে আর কোনো ব্যালট বাক্স দেশে নেই।
তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এ দেশের মানুষের কল্যাণ, ইসলামের কল্যাণ এবং ন্যায়ের পক্ষে অন্যায়ের প্রতিবাদের জন্য। সেই লক্ষ্যেই দলটি সব কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও অটল রয়েছে।
প্রার্থী হাজী মো. ইবরাহীম সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি পরীক্ষিত নেতা, দুইবার কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভবিষ্যতে আল্লাহ চাইলে তিনি এমপি নির্বাচিত হলে ইসলামী আন্দোলনের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন।
নতুন ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা প্রথমবার ভোট দেবেন, তাদের প্রথম ভোট যেন ইসলামের পক্ষে হাতপাখা প্রতীকে পড়ে—এই আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে প্রার্থী হাজী মো. ইবরাহীম বলেন, এই অঞ্চল দীর্ঘদিন সুশাসন থেকে বঞ্চিত। এখনো অনেক এলাকা পানির নিচে প্লাবিত থাকে। কাউন্সিলর থাকাকালে তিনি মানুষের সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ অতীতে তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। এবারও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
