জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘কেউ কেউ বসন্তের কোকিল হয়ে এসে বলে— কুহু কুহু। আমরা এসব চাই না।’ তিনি বলেন, যারা পাঁচ বছর পরপর এসে শুধু কথা বলে চলে যায়, দেশের মানুষ তাদের আর বিশ্বাস করে না।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করে উত্তরাঞ্চলের মানুষকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। যারা এতদিন দেশ থেকে চুরি করেছে, তাদের পেটের ভেতর থেকে টাকা বের করে উন্নয়ন করা হবে। উত্তরবঙ্গের মানুষের উন্নয়ন করে এ অঞ্চলের চেহারা পাল্টে দেওয়া হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, প্রতিটি নাগরিককে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে তৈরি করতে চান তারা। বক্তব্য নয়, ইতিহাসের সাক্ষী হতে মাঠে নেমেছেন বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, সৎ মায়ের সন্তানের মতো উত্তরবঙ্গের মানুষের সঙ্গে আচরণ করা হয়েছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে এই অঞ্চলকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। আগামী দিনে কাউকে আর বেকার দেখতে চান না বলেও জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এতদিন বলা হতো টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, এখন সময় এসেছে বলতে হবে তেতুলিয়া থেকে টেকনাফ। তিনি আরও বলেন, উত্তরবঙ্গকে পরিকল্পিতভাবে গরিব ও পিছিয়ে রাখা হয়েছে, কিন্তু ভবিষ্যতে এই অঞ্চলকে আর গরিব দেখতে চান না। কৃষিকে গুরুত্ব দিয়ে উত্তরবঙ্গকে এগিয়ে নেওয়া হবে, কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা হবে এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলগুলো চালু করা হবে।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কোনো ‘কার্ড’ নেই; দেশের মানুষই তাদের কার্ড। মানুষের ভালোবাসা নিয়েই দেশকে এগিয়ে নিতে চান তারা। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে নারী-পুরুষ সকলের হাতকে শক্তিশালী করা হবে এবং ভবিষ্যতে কাউকে আর চুরি করতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ভোট প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, কেউ ভোট ডাকাতি করতে এলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, একটি দল পাঁচ বছর পরপর একবার এসে বসন্তের কোকিলের মতো কুহু কুহু করে চলে যায়। তারা দেশের মানুষকে ফেলে কোথাও পালিয়ে যাবেন না উল্লেখ করে আমৃত্যু দেশের মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন ডা. শফিকুর রহমান।







