বাংলাদেশে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার ও বর্তমানে ভারতের রাজ্যসভার সদস্য হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। একই সঙ্গে তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে আদৌ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না, সে বিষয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে তার বক্তব্য প্রকাশ করেছে।
হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী কখনোই জয়ী হতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না। তার দাবি, অতীতে দলটি কখনোই পাঁচ থেকে সাত শতাংশের বেশি ভোট পায়নি এবং সে ধরনের জনসমর্থন তাদের নেই।
তিনি বলেন, নির্বাচনে অনিয়ম না হলে জামায়াতের ক্ষমতায় আসা অসম্ভব। অনেকেই জামায়াতকে নির্বাচনে এগিয়ে রাখার কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে অনিয়ম ছাড়া তাদের জয়ের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রসঙ্গে শ্রিংলা বলেন, যারা এখন সরকার পরিচালনা করছেন তারা নির্বাচিত নন, অথচ এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন যা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, ভারত সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে বাংলাদেশের নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ থাকা উচিত, কিন্তু বাস্তবে তা ঘটছে না।
এর আগে ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন চায়। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে তেমন পরিস্থিতি দেখতে পাচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেন।
নির্বাচন আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না, সে বিষয়েও অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নির্বাচন হলেও তা কী পরিবেশে হবে, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে অনেক প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক অনুপ্রবেশকারী পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করছে এবং রাজনৈতিক কারণে তাদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে। তার মতে, এই প্রবণতা ভারতের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশিদের ভারতে এসে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। এটিকে বাংলাদেশের ভুল সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এর প্রভাব ভবিষ্যতে খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়বে এবং এতে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়তে পারে।
