ঢাকা-১৫ আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বিপরীতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বলে জানা গেছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান একজন উচ্চশিক্ষিত চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, তিনি চিকিৎসা শিক্ষায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ধর্মীয় শিক্ষা, গবেষণা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে তার বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন সমর্থকরা।
অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের শিক্ষাগত যোগ্যতা সীমিত হওয়ায় ভোটারদের একটি অংশ নেতৃত্বের মান, আইন প্রণয়ন ও রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। বিশেষ করে সংসদ সদস্য হিসেবে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিক্ষাগত প্রস্তুতির বিষয়টি অনেকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।
ঢাকা-১৫ আসনের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তারা এমন একজন প্রতিনিধি চান যিনি জাতীয় সংসদে এলাকার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে পারবেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার জটিল বিষয়গুলো বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবেন। তাদের মতে, শিক্ষাগত যোগ্যতা একমাত্র মানদণ্ড না হলেও একজন প্রার্থীর চিন্তাভাবনা, দৃষ্টিভঙ্গি ও নেতৃত্বের সক্ষমতার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন, সংসদ শুধু রাজনীতি করার জায়গা নয়, এখানে আইন, বাজেট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সে ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকা একজন প্রার্থী এলাকাবাসীর স্বার্থ ভালোভাবে তুলে ধরতে পারবেন—এমনটাই তারা আশা করেন।
এলাকাবাসীর একাংশের মতে, ডা. শফিকুর রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ঢাকা-১৫ আসনের জন্য একটি শক্তিশালী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পারে। এ কারণেই এই আসনে প্রার্থীদের যোগ্যতা নিয়ে ভোটারদের ভাবনা ও আলোচনার মাত্রা বাড়ছে।
