বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং কমান্ডো বা স্পেশাল ফোর্সের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অত্যাধুনিক ‘জ্যাভলিন’ অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (ATGM) এবং কিছু গোপনীয় সামরিক সরঞ্জাম (Classified Equipment) বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে। মূলত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ের ক্ষেত্রে একক দেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে এবং পশ্চিমা প্রযুক্তির সাথে সমন্বয় বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন সামরিক তথ্য অনুযায়ী, বিশেষায়িত ইউনিটের জন্য এই মিসাইল এবং কিছু উচ্চপ্রযুক্তির সরঞ্জাম সরবরাহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রথমবারের মতো মার্কিন প্রযুক্তির কোনো আধুনিক মিসাইল সিস্টেম নিজেদের অস্ত্রাগারে যুক্ত করতে যাচ্ছে।
জ্যাভলিন মিসাইলের বৈশিষ্ট্য ও কার্যকারিতা: এফজিএম-১৪৮ (FGM-148) জ্যাভলিন মূলত একটি ‘ম্যান-পোর্টেবল’ বা বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, যা একজন সৈনিক অনায়াসেই কাঁধে রেখে শত্রুর ট্যাঙ্কে নিখুঁতভাবে আঘাত করতে পারেন। এর প্রধান গুণাগুণগুলো হলো:
ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট প্রযুক্তি: জ্যাভলিনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ সিস্টেম। একবার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে ট্রিগার চাপলে মিসাইলটি নিজেই ইনফ্রারেড ইমেজিং ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুকে ধাওয়া করে। ফলে নিক্ষেপকারীকে মিসাইলটি গাইড করতে হয় না এবং তিনি দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পারেন।
টপ-অ্যাটাক মোড: যেকোনো আধুনিক ট্যাঙ্কের ওপরের বর্ম (Armor) সবচেয়ে পাতলা থাকে। জ্যাভলিন মিসাইলটি উৎক্ষেপণের পর আকাশমুখী হয়ে ওঠে এবং ওপর থেকে সোজা ট্যাঙ্কের মাথায় আঘাত হানে। এটি আধুনিক যেকোনো মেইন ব্যাটল ট্যাঙ্ক (MBT) ধ্বংস করতে সক্ষম।
ডাইরেক্ট অ্যাটাক মোড: এটি নিচু থেকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে, যা বাঙ্কার, ছোট ভবন বা হেলিকপ্টারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর।
সফট লঞ্চ সিস্টেম: এই মিসাইলের প্রাথমিক প্রপেলারটি খুব সামান্য চাপে মিসাইলটিকে টিউব থেকে বের করে দেয়, এরপর কিছুটা দূরে যাওয়ার পর এর মূল রকেট মোটর চালু হয়। এতে কোনো ‘ব্যাক-ব্লাস্ট’ হয় না, ফলে ঘেরা ঘর বা ভবনের ভেতর থেকেও এটি নিরাপদে নিক্ষেপ করা যায়।
প্রতিরক্ষা কৌশল ও গুরুত্ব: বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষ বাহিনীর জন্য জ্যাভলিনের মতো প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বিশেষ করে গেরিলা যুদ্ধ বা পাহাড়ি অঞ্চলে শত্রু বাহিনীর শক্তিশালী ট্যাংকের গতিরোধ করতে এটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। জ্যাভলিনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র স্পেশাল ফোর্সের জন্য কিছু গোপনীয় বা ‘ক্লাসিফাইড’ সরঞ্জাম দেওয়ার কথা জানিয়েছে, যার মধ্যে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা (Advanced Communication System) এবং নাইট ভিশন প্রযুক্তি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই প্রতিরক্ষা চুক্তির ফলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কেবল আধুনিকায়নই হবে না, বরং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশন এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় স্পেশাল ফোর্সের কার্যকারিতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।
