আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নাশকতার বড় ধরনের ছক আঁকছে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো। নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যে তারা হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন সশস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে একাধিক গোয়েন্দা সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।
গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ছদ্মবেশে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি প্রচারণায় ঢুকে পড়তে পারে। সেখানে অতর্কিত হামলা বা নাশকতার মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। একাধিক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে থাকা আওয়ামী লীগ কর্মীরা বিদেশে পলাতক নেতাদের সঙ্গে ‘ধানমন্ডি ৩২’ নামক টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং সেখান থেকেই নাশকতার বিভিন্ন নির্দেশনা গ্রহণ করছে।
তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন বানচাল করতে ‘টার্গেট কিলিং’-এর মতো ভয়ানক মিশন নিয়ে মাঠে নামতে পারে পতিত এই দলটির সশস্ত্র ক্যাডাররা। এর প্রধান টার্গেট হতে পারেন জুলাই অভ্যুত্থানের অগ্রসেনানি, বিভিন্ন দলের প্রভাবশালী নেতা এবং যারা যুক্তিতর্ক দিয়ে নির্বাচনের পক্ষে জনমত গড়ে তুলছেন। ইতিমধ্যে এই ছকের অংশ হিসেবে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি এবং ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বির হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাগুলোকে আসন্ন নির্বাচনের আগে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গোয়েন্দা সূত্র আরও জানায়, ৫ই আগস্টের পর পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্রের একটি বড় অংশ এবং আওয়ামী লীগ আমলে লাইসেন্স দেওয়া কয়েকশ অস্ত্র এখনো জমা পড়েনি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই অস্ত্রগুলো বর্তমানে সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের হাতে রয়েছে, যা নির্বাচনের দিন নাশকতায় ব্যবহৃত হতে পারে। এছাড়া সাধারণ ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘এআই’ (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ডিপ-ফেক ভিডিও ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ দলের বিদেশে পলাতক নেতারা নানা উসকানি দিলেও তাদের নির্বাচন বানচালের সক্ষমতা নেই। পতিত সরকারের নেতাকর্মীরা কঠোর নজরদারিতে রয়েছে এবং পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী সমন্বিতভাবে মাঠে কাজ করছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পলাতক নেতাদের ‘নো বোট, নো ভোট’ বা ‘নৌকা নেই তো ভোট নেই’ এমন উসকানিমূলক অবস্থানের কারণে নির্বাচনি উত্তাপ ও শঙ্কা জনমনে থেকেই যাচ্ছে।







