সরকারি নির্দেশনায় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিটুডে ডট নেট-এর ওয়েবসাইট বাংলাদেশে ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নির্দেশনায় দেশের মোবাইল অপারেটরগুলোর ইন্টারনেটে পোর্টালটি বন্ধ রাখা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে বর্তমানে মোবাইল ডেটা ব্যবহার করে দেশের কোনো গ্রাহক আর ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ করতে পারছেন না।
মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, বিটিআরসি থেকে পাওয়া সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার প্রেক্ষিতেই তারা ওয়েবসাইটটি ব্লক করেছে। তবে কী কারণে বা কোন ধরনের নির্দেশনার ভিত্তিতে এটি বন্ধ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সাইটটিতে ঢোকার চেষ্টা করলে এটি ‘অনুমোদনহীন’ বলে নোটিফিকেশন দেখাচ্ছে।
অন্যদিকে, আরেক অপারেটর রবির পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো ভূমিকা থাকার কথা অস্বীকার করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওয়েবসাইট ব্লক করার ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব কোনো এখতিয়ার নেই; এটি সম্পূর্ণ সরকারি সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, গ্রামীণফোনের পাশাপাশি রবি, এয়ারটেল ও বাংলালিংক-এর ডেটা ব্যবহার করেও বিডিটুডের পোর্টালে প্রবেশ করা যাচ্ছে না।
বিটিআরসির এমন পদক্ষেপের বিষয়ে সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছেন, ওয়েবসাইটটি বন্ধের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং এমন কোনো বিষয়ের অনুমোদনও তিনি দেননি। কারা এটি ব্লক করেছে, সে বিষয়েও তিনি অবগত নন বলে উল্লেখ করেছেন।
বিডিটুডের প্রধান উদ্যোক্তা অধ্যাপক ড. মোকাররম হোসেন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেছেন যে, বিগত সরকারের আমলেও ৬০ বারের বেশি এই সাইটটি ব্লক করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী ও বাংলাদেশপন্থি একটি মিডিয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে তা অকল্পনীয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। অতি দ্রুত ওয়েবসাইটটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে দেশের বেসরকারি মোবাইল অপারেটরগুলোর মাধ্যমে সাইটটি বন্ধ থাকলেও রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর টেলিটক এবং বিভিন্ন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে এখনো এটি দেখা যাচ্ছে। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিডিটুডে সাধারণত নিউজ এগ্রেগেটর এবং নিজস্ব প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে কাজ করে থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পোর্টালটির ব্যাপক জনমত ও বড় সংখ্যক ফলোয়ার রয়েছে।
