বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সুপরিকল্পিত সাইবার হামলার মাধ্যমে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের ডিজিটাল ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়েছে। রোববার মগবাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আইটি টিম ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এই দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, সরকারি ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করে ‘আর্জেন্ট’ (Urgent) শিরোনামে ফিশিং মেইল পাঠিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা জানান, হ্যাকাররা গত ২৩ জানুয়ারি বঙ্গভবনের একটি সরকারি ইমেইল ঠিকানা থেকে জামায়াত আমিরের ব্যক্তিগত মেইলে নির্বাচন সংক্রান্ত জরুরি তথ্যের নামে একটি ফাইল পাঠায়। ওই ফাইলে ক্লিক করার সাথে সাথেই ডিভাইসে ‘রিমোট অ্যাক্সেস ট্রজান’ (Remote Access Trojan) বা র্যাট (RAT) নামক একটি ম্যালওয়্যার ইনস্টল হয়ে যায়। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে হ্যাকাররা ব্যবহারকারীর পিসি বা ইন্টারনেট ব্রাউজারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়, যা অনেকটা টিম ভিউয়ার বা অ্যানিডেস্কের মতো কাজ করে।
আইটি টিমের দাবি অনুযায়ী, এই ম্যালওয়্যার ব্যবহারের ফলে হ্যাকারদের কোনো আইডি বা পাসওয়ার্ড হ্যাক করার প্রয়োজন হয়নি। তারা সরাসরি ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শনিবার বিকেলে জামায়াত আমিরের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের নিয়ে একটি চরম অবমাননাকর ও বিতর্কিত পোস্ট দেয়। ওই সময় ডা. শফিকুর রহমান কেরানীগঞ্জে একটি নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন, যার ভিডিও প্রমাণও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়।
জামায়াত অভিযোগ করেছে যে, এটি একটি গভীর ও সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। তাদের মতে, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী আগে থেকেই এই পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছিল। বিতর্কিত পোস্টটি দেওয়ার সাথে সাথেই একটি বিশেষ চক্র এর স্ক্রিনশট নিয়ে প্রচার শুরু করে এবং এর প্রতিবাদে মাঠে নামার প্রস্তুতিও আগে থেকে নিয়ে রাখা হয়েছিল বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। এমনকি নির্দিষ্ট কিছু অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও আইডি থেকে এই ঘটনার পক্ষে তাৎক্ষণিক প্রচার চালানো হয় বলেও তারা উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পুরো বিষয়টি বুঝতে পারার পর জামায়াতের সাইবার টিম দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ৫টা ৯ মিনিটে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে এবং সেশন আউট করার মাধ্যমে ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। এই সাইবার হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যে হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে। জামায়াত এই নজিরবিহীন সাইবার আক্রমণের আন্তর্জাতিক মানের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে।
