নোয়াখালীর সুবর্ণচরে চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে গণধর্ষণ মামলার মূলহোতা এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবুল খায়ের মুন্সি ওরফে ‘মুন্সিয়া চোরা’কে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে দেখা যাওয়ায় জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের আল-আমিন বাজারে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে তার উপস্থিতির একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে আল-আমিন বাজারে ধানের শীষের নির্বাচনী কার্যালয়ে বসে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নির্বাচনের প্রচারণা নিয়ে আলোচনা করছিলেন চরওয়াপদা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল খায়ের মুন্সি। সে সময় এক বিএনপি কর্মী গোপনে তার ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। আওয়ামী লীগের এই বিতর্কিত নেতার আকস্মিক বিএনপি প্রীতিতে খোদ বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করছেন, দলের ঊর্ধ্বতন নেতারা হয়তো কোনো অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে এমন একজন ঘৃণ্য ব্যক্তিকে পাশে জায়গা দিচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, চিহ্নিত এই অপরাধীকে প্রশ্রয় দিলে সাধারণ মানুষের কাছে দল জনবিচ্ছিন্ন ও বিতর্কিত হয়ে পড়বে।
চরওয়াপদা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি অলি উদ্দিন সেলিম এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, কে বা কারা আবুল খায়ের মুন্সিকে বিএনপির কার্যালয়ে এনেছে তা তার জানা নেই। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আবুল খায়ের মুন্সির মতো চিহ্নিত অপরাধী ও আওয়ামী লীগ নেতা যদি বিএনপির হয়ে প্রচারণা চালায়, তবে সাধারণ ভোটাররা ধানের শীষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।
উল্লেখ্য, আবুল খায়ের মুন্সি সুবর্ণচরের সেই আলোচিত মা-মেয়ে গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি হিসেবে দীর্ঘ সময় কারাবরণ করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে এলাকায় চুরি ও নারী নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত আবুল খায়ের মুন্সির বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। এমনকি কার্যালয়ে উপস্থিত অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতারাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
