যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও তা হলফনামায় গোপনের অভিযোগে কুমিল্লা-১০ আসনের বিএনপি প্রার্থী গফুর ভূঁইয়ার প্রার্থিতা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বাতিল হওয়ায় একই ধরনের অভিযোগে ঢাকা-১১ আসনের বিএনপি প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতা নিয়েও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিদেশি নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগে সোমবার হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয় ঢাকা-১১ (বাড্ডা–ভাটারা–রামপুরা) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের পক্ষে। রিটে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তা স্থগিতের আবেদন জানানো হয়েছে।
রিটে বলা হয়, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুম ‘ভানুয়াতু’ নামের একটি দেশের নাগরিক হলেও বিষয়টি তিনি নির্বাচনী হলফনামায় গোপন করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকরা সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য—এমন যুক্তিও তুলে ধরা হয়।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের পক্ষে আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা জানান, শিগগিরই রিটের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, “আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।”
এদিকে উচ্চ আদালতে রিট দায়েরের পর প্রতিক্রিয়ায় নাহিদ ইসলাম বলেন, কয়েক দিন আগে বিভিন্ন সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বিএনপি প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুম দ্বৈত নাগরিক। তিনি এই তথ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে গোপন করেছেন বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম।
সোমবার পশ্চিম রামপুরায় গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। এখন বিষয়টি আইনের হাতে। আইনই এর সুরাহা করবে।”
এ সময় তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত ব্যানার ছেঁড়া হচ্ছে এবং কর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানানো হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
